ছবি: সংগৃহীত
চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসসহ কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
সোমবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে নিয়মিত ফোর্সের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। তাছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে দুদেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়, অবৈধ অভিবাসন, সন্ত্রাসবাদ দমন, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দূতাবাস সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম জোরদারকরণে বিশেষ কর্মসূচি (এসপিইএআর), ইলেকট্রনিক জাতীয়তা যাচাই (ইএনভি) বাস্তবায়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দেশটি শুরু থেকেই বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমন ও নিরাপত্তা খাতে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হয়ে কাজ করে আসছে।
এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায়। তিনি বলেন, ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসসহ সমগ্র কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করার লক্ষ্যে এসপিইএআর প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। এ লক্ষ্যে দ্রুত সমঝোতা স্মারক সই করা প্রয়োজন। অন্যথায়, যুক্তরাষ্ট্রের এ তহবিল ফেরত বা অন্যত্র চলে যেতে পারে।
রাষ্ট্রদূতের আহ্বানে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি নিয়ে দ্রুত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চাই।
রাষ্ট্রদূত এ সময় মন্ত্রীকে তার নতুন পদে দায়িত্ব পালনের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ অভিবাসন রোধে বাংলাদেশে ইএনভি প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করতে চায়। এটি বাস্তবায়ন করলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন খাতে বাংলাদেশ গ্রিন জোনে অন্তর্ভুক্ত হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, সন্ত্রাস দমন খাতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে। সন্ত্রাস দমন কর্মসূচিতে সহযোগিতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা থেকে উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পর্যায়ের প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সরবরাহ করেছে। কিন্তু কর্মকর্তাদের অবসর ও বদলিজনিত কারণে এটি আশানুরূপ ফলপ্রসূ হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে একটি সভা বা কর্মশালা আয়োজনের জন্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর এরিক গিলান, রাজনৈতিক কর্মকর্তা শেন স্যান্ডারস, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ তানিক মুনির ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা রিলে পালমারট্রি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: