ছবি: সংগৃহীত
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে ১২ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় আদালত। আগামী ২ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুনানী শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। এসময় ফয়সাল খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, ‘আমি এসব কাজের সঙ্গে জড়িত না। এটা জামায়াত-বিএনপির চাল হতে পারে। আপনারা যে এত হাদি হাদি করছেন, বাংলাদেশে যে এত হাদি হাদি হচ্ছে, সে তো আসলে জঙ্গি।’
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে দেখা গেছে উল্লেখ করলে ফয়সাল বলেন, ‘আমাকে গুলি করতে দেখা যায়নি।’ পরক্ষণে তিনি ঘটনাস্থলে থাকার কথাই পুরোপুরি অস্বীকার করেন।
ফয়সাল ও আলমগীরের বিরুদ্ধে আগেই ১৪ ফরেনারস আইনে মামলা দায়ের করা ছিল। রোববার নতুন করে অন্য একটি মামলায় ‘আনলফুল এক্টিভিটিস (প্রিভেনশন) আইন’ বা ইউএপিএ আইনের ১৬ এবং ১৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এর আগে রোববার (২২ মার্চ) সকালে দুই আসামিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে তাদের কারাগারে নিয়ে জেরা করার আবেদন জানায়। আদালত তাতে সম্মতি দেন। প্রধান দুই অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডে ছিল।
এদিকে আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকরা ফয়সালকে হাদি হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোন কাজে ছিলাম না।’ তাকে এই ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে কি না- এমন প্রশ্ন করা হলে অবশ্য কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
গত ৮ মার্চ ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তারা দু’জন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় আত্মগোপন করেছিলেন। সুযোগ বুঝে ফের তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টার অপেক্ষায় ছিল বলে জানায় এসটিএফ সূত্র।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। তিন দিন পর ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। ফয়সাল করিম মাসুদকে আসামি করে ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: