ফাইল ছবি
প্রায় আড়াই মাস পর অবশেষে বাংলাদেশে আসছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) চালান। সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে এক লাখ টন ক্রুড নিয়ে অয়েল ট্যাংকার এমটি নিনেমিয়া বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটি নোঙর করার পর পরই শুরু হবে খালাস কার্যক্রম।
ক্রুড অয়েলের এই চালান ঘিরে দেশের জ্বালানি খাতে বইছে স্বস্তির হাওয়া। আবারও সচল হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল রিফাইনারির মূল প্ল্যান্টে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ক্রুডের নতুন চালানে আগামী ৭ মে বা পরদিন রিফইনারি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ইআরএল-এ উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আমদানি করা হচ্ছে আরও দুই লাখ টন ক্রুড অয়েল যা মে ও জুনে দেশে পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা দেখা দিলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। সরু এই প্রণালি হয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়। বাংলাদেশের ক্রুড অয়েলও আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। দেশে ক্রুড অয়েলের সর্বশেষ চালানটি এসেছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর যুদ্ধাবস্থার কারণে নানামুখী চেষ্টার পরও ক্রুড অয়েলের কোনো চালান আমদানি করা যায়নি। এক লাখ টন ক্রুড বোঝাই করার পর সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে নর্ডিক পোলাক্স নামের একটি জাহাজ। শেষে বিকল্প রুট ব্যবহার করে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ক্রুড আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই বন্দর থেকে ক্রুড বোঝাই করে এমটি নিনেমিয়া চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় গত ২১ এপ্রিল।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থানা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, এমটি নিনেমিয়া বুুধবার সকাল ১১ টার দিকে কুতুবদিয়া বহির্নোঙরে পৌঁছাবে। এরপর বহির্নোঙরেই লাইটারিংয়ের মাধ্যমে (ছোট জাহাজযোগে) তেল খালাস করে নিয়ে যাওয়া হবে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে।
তিনি জানান, সহসাই আসছে ক্রুড অয়েলের দুই লাখ টনের আরও বড় দুটি চালান।এর মধ্যে আগামী ১০ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে এমটি ফসিল নামের একটি ট্যাংকারে লোড করা হবে ১ লাখ টন। এটি ২০-২১ মে চট্টগ্রাম পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া মে’র শেষ দিকে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে অপর একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড লোড করার প্রক্রিয়া চলছে।
জানা গেছে, কাঁচামালের চালান (ক্রুড অয়েল) আসছে-এমন খবরে বন্ধ থাকা ইআরএল চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ খান জানান, ক্রুড অয়েল ট্যাংকে আসার পর ৭ মে অথবা এর পরদিন প্ল্যান্ট চালু করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, কাঁচামাল সংকটে বর্তমানে চারটি ইউনিটের তিনটি বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, ইআরএল-এ পরিশোধনের পর প্রতিদিন চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি ও উপজাত উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ প্রায় ৪৫ শতাংশ। প্রতি বছর এখানে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড পরিশোধন করা হয়। দেশের জ্বালানি চাহিদার ২০ শতাংশের কিছুটা কম যোগান দেয় এই রিফাইনারি।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: