প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের এডিপি ছাড়িয়ে যাচ্ছে ৩ ট্রিলিয়ন টাকা

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১০ মে ২০২৬, ০৮:৫৮

ছবি: গ্রাফিক্স ছবি: গ্রাফিক্স

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার তিন লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এডিপির আকার হচ্ছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। চলমান এডিপির চেয়ে আগামী এডিপি এক লাখ কোটি টাকা বাড়ছে।

শনিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বর্ধিত সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপির খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। আগামী ১৬ মে আরেকটি বর্ধিত সভায় এডিপির খসড়া চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আজকের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চলতি মাসেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় আগামী অর্থবছরের এডিপি পাস হবে, যা পরে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নতুন এডিপিতে প্রকল্পের সংখ্যা ১১২১।

চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নাজুক। অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর)। এ অবস্থায় আগামী বছরে আরেকটি বড় এডিপি নিচ্ছে সরকার। এ ছাড়া প্রকল্পে বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাবও আছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ধিত সভায় উপস্থাপিত খসড়া অনুসারে আগামী অর্থবছরের মূল এডিপির আকার তিন লাখ কোটি টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প, সেখানে খরচ আরও ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। খসড়া এডিপির মধ্যে দেশজ উৎস থেকে দেওয়া হবে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে।

খসড়া প্রস্তাব অনুসারে চলতি এডিপি থেকে আগামী এডিপিতে শিক্ষায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ও স্বাস্থ্যে ১৭ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে।

চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই–মার্চ) এডিপির ৩৬ শতাংশের মতো বাস্তবায়ন হয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

বরাদ্দে শীর্ষ ৫ খাত কোনগুলো

প্রস্তাবিত খসড়া এডিপিতে বরাদ্দের দিক থেকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতকে। এ খাতে মোট ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষা খাতে। এ খাতে বরাদ্দ ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে থাকা স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। এরপরে চতুর্থ স্থানে থাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা। পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে গৃহায়ণ খাতে। এ খাতে বরাদ্দ ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।