ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাংলাদেশি উদ্যোক্তা রবিন খুদার

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১২ জুন ২০২৬ ২০:৪৯

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

অর্থের কোনো দেশ নেই-এটি আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া উদ্যোক্তা রবিন খুদা। তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার বিলিয়নিয়ার এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ারট্রাঙ্ক এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশাল ডাটা সেন্টার অবকাঠামো গড়ে তুললেও তিনি এখন সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়েছেন ভারতের প্রযুক্তিখাতে। সেখানে তিনি ৩০ বিলিয়ন ডলারের হাইপারস্কেল ডাটা সেন্টার প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন, যার ক্ষমতা প্রায় পাঁচ গিগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগ শুধু ডাটা সেন্টার নির্মাণ নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই–নির্ভর ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলার অংশ।

কেন বাংলাদেশ নয়?

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগকারীরা আবেগ নয় বরং স্থিতিশীলতা, আইনি নিশ্চয়তা, নীতির ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন। এই কারণেই অনেক বড় প্রযুক্তি বিনিয়োগ ভারতে যাচ্ছে, বাংলাদেশে নয়।

এসব বিনিয়োগ বাংলাদেশে গেলে দেশে একটি বড় প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটতে পারত, তৈরি হতে পারত হাজারো উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে বড় অগ্রগতি আসত।

তবে বাস্তবতা হলো, বিনিয়োগ টিকে থাকে আস্থার ওপর। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নীতি পরিবর্তন এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে।

ভারত বর্তমানে প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের সংস্কার ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে।

ফলে ধীরে ধীরে দেশটি এআই ও ডিজিটাল অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে।

বিশ্লেষকের মতে, রবিন খুদার সিদ্ধান্তকে শুধু নিজ দেশের প্রতি অনাগ্রহ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি একটি বৃহত্তর বাস্তবতার প্রতিফলন। বিশ্ব অর্থনীতি এখন আবর্তিত হচ্ছে আস্থার ভিত্তিতে।

লেখকের মতে, যেসব দেশ স্থিতিশীলতা ও নীতিগত নিশ্চয়তা দিতে পারে, সেখানেই মূলধন প্রবাহিত হয়।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: