ফাইল ছবি
বাংলাদেশে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা বাড়াতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে বাজেট নথি প্রস্তুত এবং দেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) কার্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীনতা দেয়ার তাগিদ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত ‘২০২৬ ফিসকাল ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট: বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। ১১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থবছর শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব বিবরণী জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করে আর্থিক স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। একই সঙ্গে আগের সরকারের বাজেটসংক্রান্ত সুপারিশ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পাশাপাশি আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের নির্বাহী বাজেট প্রস্তাব এবং অনুমোদিত বাজেট অনলাইনে প্রকাশ করেছে। বাজেট নথি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড পুরোপুরি অনুসরণ করে তৈরি না হলেও এতে থাকা তথ্য সামগ্রিকভাবে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। সরকারের ঋণসংক্রান্ত দায়ের তথ্যও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এ ছাড়া বাজেট নথিতে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে পাওয়া রাজস্বসহ সরকারের পরিকল্পিত আয় ও ব্যয়ের মোটামুটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, সরকারের নির্বাহী কার্যালয়গুলোর পরিচালন ব্যয়ের পৃথক ও বিস্তারিত হিসাব বাজেটে তুলে ধরা হয়নি। একইভাবে সরকারের মোট রাজস্ব ও ব্যয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্রও বাজেট নথিতে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানও প্রতিবেদনে সমালোচনার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারেনি। এমনকি সরকারের হিসাব পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ই-জিপি বা ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা চালু করলেও এতে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার ও তথ্যের সহজলভ্যতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
আর্থিক স্বচ্ছতা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ সরকারের জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে রয়েছে, প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের চুক্তি ও লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে মৌলিক তথ্য জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তির তথ্য উন্মুক্ত করা এবং অনুমোদিত বাজেটের সঙ্গে বাস্তব আয়-ব্যয়ের যথাসম্ভব সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা। এ ছাড়া সিএজি কার্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীনতা ও পর্যাপ্ত সম্পদ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পুরো বছরের বাস্তবায়িত বাজেটে সিএজি যেন সময়মতো ও সরাসরি প্রবেশাধিকার পেয়ে নিরীক্ষা করতে পারে, সেটিও নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্লেষণ
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিরীক্ষা প্রতিবেদন যথাসময়ে প্রকাশ করা প্রয়োজন এবং সেসব প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ নিরীক্ষা-ফলাফল, সুপারিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাখ্যা থাকা উচিত। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: