রমজানে আল আকসা বন্ধ রাখায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাল ৮ মুসলিম দেশ

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১২ মার্চ ২০২৬ ১৬:৩৮

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

পবিত্র রমজান মাসে টানা ১২ দিন আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার ঘটনায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্বের আটটি দেশ। একই সঙ্গে এ পদক্ষেপকে কঠোর ভাষায় নিন্দা করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও।

বুধবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে কাতার, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানান, জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং সেখানে অবস্থিত ধর্মীয় উপাসনালয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে ইসরাইলের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

তারা বলেন, ধর্মীয় স্থানে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক নীতির অংশ। কিন্তু আল-আকসা মসজিদ বা আল-হারাম আল-শরিফ এলাকায় ইসরাইলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই নীতির পরিপন্থী ও সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। এ ধরনের সিদ্ধান্তকে তারা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান ও নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দখলকৃত জেরুজালেম এবং সেখানে অবস্থিত ইসলামিক ও খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরাইলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উল্লেখ করেন, আল-আকসা মসজিদের পুরো এলাকা মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত একটি পবিত্র স্থান। জর্ডানের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেরুজালেম ওয়াকফ ও আল-আকসাবিষয়ক দপ্তরই এ স্থানের বৈধ ও একমাত্র প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ।

তারা ইসরাইলকে অবিলম্বে আল-আকসা মসজিদের ফটক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, জেরুজালেমের পুরোনো শহরে প্রবেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে ইবাদত করার সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসরাইলের এসব লঙ্ঘন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

অন্যদিকে ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থেকে পুরোনো শহরে প্রবেশ ও ইবাদতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

তবে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তকে ফিলিস্তিনিদের মৌলিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এ তথ্য জানায়।

এদিকে হামাসও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখা ইতিহাসে একটি বিপজ্জনক নজির এবং এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: