01/09/2026 যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল করলে ন্যাটোর পতনের সতর্কবার্তা ডেনমার্কের
মুনা নিউজ ডেস্ক
৬ জানুয়ারী ২০২৬ ১৯:৪৬
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আমেরিকান বাহিনীর আটকের ঘটনার রেশ ধরে এবার ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
সোমবার ডেনিশ সম্প্রচারমাধ্যম টিভি টু-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তবে সামরিক জোট ন্যাটোর চিরসমাপ্তি ঘটবে।
ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের ওপর সামরিক হামলা চালায়, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে গড়ে ওঠা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ন্যাটোর কোনো অস্তিত্বই আর অবশিষ্ট থাকবে না। ভেনেজুয়েলা অভিযানের পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে ২০ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় এই প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন এবং প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি। ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘২০ দিন পর আমরা গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কথা বলব।’
তার এই মন্তব্যের পর ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন এবং গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের দরকার, কারণ ডেনমার্কের পক্ষে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন যে, আর্কটিক অঞ্চলে ডেনমার্কের অস্ত্রভান্ডারে কেবল ‘আরেকটি কুকুরচালিত স্লেজ গাড়ি’ যুক্ত হয়েছে। তবে ডেনিশ বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই দাবিকে অমূলক বলে মনে করেন এবং জানিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ডের আশেপাশে রাশিয়া বা চীনের জাহাজ থাকার দাবিটি বাস্তবসম্মত নয়।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন জনগণকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে, গ্রিনল্যান্ডকে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির সঙ্গে মেলানো ঠিক হবে না। তিনি আরও জানান যে, রাতারাতি কেউ গ্রিনল্যান্ড দখল করে নেবে—এমন আশঙ্কা অমূলক এবং তারা এখনো আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরই জোর দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে পেন্টাগনের ‘পিটুফিক স্পেস বেস’ নামের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ও মহাকাশ নজরদারির কাজ করে।
এছাড়া গত বছর ডেনিশ পার্লামেন্টে পাস হওয়া একটি বিলের মাধ্যমে ডেনমার্কের মাটিতে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা কেটি মিলারের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্র, যা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে রাঙানো এবং তাতে ‘সুন’ বা ‘শিগগিরই’ লেখা—সব মিলিয়ে ন্যাটোর অখণ্ডতা এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.