02/10/2026 আলোচনা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা অব্যাহত; ক্ষেপণাস্ত্র আলোচনা বাতিল করল তেহরান
মুনা নিউজ ডেস্ক
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৫
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ওমানের মাস্কাটে প্রথম দফার আলোচনায় যুদ্ধের হুমকি কমলেও দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা আগের মতোই আছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনোভাবেই ইরানকে ছাড় দিতে চান না। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছেন।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত দেশগুলোরও ওপর শুল্ক হুমকি জারি করেছেন। এই অবস্থায় ইরান নিজের অনড় অবস্থান ব্যক্ত করে বলেছে, আলোচনা শুধু পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে হচ্ছে। মিসাইল প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না। কারণ, বিষয়টি ইরানের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। মিডলইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, মিসাইলে তেহরান ছাড় দেবে না– ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এমন বক্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তড়িঘড়ি ছুটে যাচ্ছেন ওয়াশিংটনে। সেখানে আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তিনি আশা করেন, আলোচনা শিগগির আবার শুরু হবে। আগামী সপ্তাহে এটা হতে পারে। শনিবার দোহায় আলজাজিরা ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কখনোই আলোচনাযোগ্য বিষয় নয়। তিনি সতর্ক করে দেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি ভূখণ্ডে আক্রমণ করলে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এ সময় তিনি ইসরায়েলের সামরিক সম্প্রসারণ নীতির কড়া সমালোচনা করেন। আরাগচি আশা প্রকাশ করেছেন, ওয়াশিংটন ‘হুমকি এবং চাপ’ থেকে বিরত থাকবে, যাতে আলোচনা অব্যাহত থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগের মতোই আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হবে। কারণ, উভয় পক্ষই নিজস্ব অবস্থানে অটল। কেউই পিছু হটতে ইচ্ছুক নয়। কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ আল-শায়জি বলেন, দুই শত্রু দেশে মধ্যে নতুন চুক্তি হলেও শান্তি ফেরার আশাবাদ দেওয়া কঠিন। তবে রণতরী দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চাপ প্রয়োগ করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র।
নেতানিয়াহু বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে ইরান সংকট নিয়ে বৈঠক করবেন। নেতানিয়াহুর কার্যালয় শনিবার জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। আলোচনার মধ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সীমিত করার বিষয়টি থাকা উচিত। তাছাড়া হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো মিত্রশক্তির প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করাও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত চান নেতানিয়াহু।
শক্তি প্রয়োগ করে উদ্দেশ্য সাধন চায় যুক্তরাষ্ট্র
মিডলইস্ট মনিটর লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত শক্তি প্রয়োগ করেই উদ্দেশ্য সাধন করতে চায়। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার শনিবার আরব সাগরে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী পরিদর্শন করেন। পরে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে উইটকফ বলেন, ‘বিমানবাহী রণতরী আমাদের নিরাপদ রাখছে এবং শক্তির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তির বার্তা সমুন্নত রাখছে।’ গত মঙ্গলবার স্পষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়াই বিমানবাহী রণতরীটির কাছে আসা একটি ইরানি ড্রোন ধ্বংসকারী পাইলটের সঙ্গেও কথা বলেন উইটকফ। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ও নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সঙ্গে ছিলেন।
ইরানকে পাঁচ শর্ত ট্রাম্পের
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ জানিয়েছে, প্রথম দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে পাঁচটি প্রধান দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হলো– জমানো ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে ফেলা, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোর বিলোপ ঘটানো, ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস করা, মিসাইল কর্মসূচি বন্ধ করা এবং সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক ও লেবাননে সশস্ত্র মিত্রদের সহায়তা বন্ধ করা।
ইরানকে রক্ষায় হাজারো ইরাকি স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত
ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা থেকে রক্ষা করতে হাজার হাজার ইরাকি নাগরিক একটি অঙ্গীকারে স্বাক্ষর করেছেন। একটি বিবৃতি অনুসারে, ‘ইরাকের দিয়ালা প্রদেশে প্রায় পাঁচ হাজার নাগরিক কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই যুদ্ধে ইরানকে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এ জন্য পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস ইরানকে সমর্থন দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.