04/22/2026 চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় থাকবে
মুনা নিউজ ডেস্ক
২২ এপ্রিল ২০২৬ ০১:০২
ইরানের সাথে একটি নতুন এবং কার্যকরী কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত দেশটির সমুদ্রবন্দরে অবরোধ বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে যখন ভয়াবহ অনিশ্চয়তা কাজ করছে, ঠিক তখনই এমন কড়া বার্তা দিলেন তিনি।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই অবরোধ ইরানকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। একইসাথে এই দ্বন্দ্বে তার দেশ অনেক বড় ব্যবধানে জয়ী হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এমন এক সময়ে তিনি এই মন্তব্য করলেন যখন আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা আদৌ শুরু হবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি হিসেবে ইসলামাবাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনো ওয়াশিংটন ছাড়েননি। অন্যদিকে ইরানও এখন পর্যন্ত এই বৈঠকে যোগ দেয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অন্তত ২৭টি জাহাজকে ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।
এছাড়া গত রোববার অবরোধ ভেঙে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রথমবারের মতো ইরানের পতাকাবাহী একটি মালবাহী জাহাজ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকমের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা নামার আগে সেটিকে সতর্ক করা হচ্ছে। তেহরান অবশ্য এই ঘটনাকে জলদস্যুগিরি এবং দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান নাজুক যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হুরমুজ প্রণালীতে ইরান গত প্রায় দু’মাস ধরে নিজেদের অবরোধ বজায় রেখেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। গত শনিবার কয়েক ঘণ্টার জন্য পথটি খুলে দেয়া হলেও একটি ট্যাংকারসহ কয়েকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে তেহরান হামলা চালিয়েছে এমন খবরের পর আবারো সেটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
ট্রাম্প এ ঘটনাকে ইরানের পক্ষ থেকে গুলি ছোড়ার শামিল এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। এর বিপরীতে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরের ওপর থেকে অবরোধ না সরানো পর্যন্ত তারা এই নৌপথ বন্ধই রাখবে।
শান্তি আলোচনা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক রশি টানাটানি চললেও পর্দার আড়ালে প্রস্তুতির কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে প্রথম দফার আলোচনা শেষে জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, ইরান তাদের শর্তগুলো মানতে রাজি হচ্ছিল না। সেই সাথে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ওয়াশিংটনকে অতিরিক্ত এবং বেআইনি দাবি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে জেডি ভ্যান্সের সাথে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা রয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে কারা প্রতিনিধিত্ব করবেন বা আদৌ কেউ আসবেন কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর মধ্যেই ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেল থেকে অতিথিদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে এবং বিদেশী প্রতিনিধিদের আগমনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
পাকিস্তানের একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা ইরানকে এই আলোচনায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.