04/25/2026 পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৭
একটি বুথে ভোট পড়েছে ৯৯.৬২ শতাংশ। আবার একটি বুথে ভোট পড়েছে, ৯৮ শতাংশ। তবে ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে ৯৯.৬২ শতাংশ ভোটদান সর্বকালীন রেকর্ড তৈরি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোটের বিভিন্ন বুথে ভোটদানের তথ্য থেকে এসব জানা গেছে। আর এই রেকর্ড ভোটদানের হার প্রধানত ঘটেছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বুথগুলোতেই। বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বুথে ভারতীয় নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯৯.৬২ শতাংশ ভোটদানের হার রেকর্ড করা হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের উত্তরবিল-মাঝপাড়া গ্রামের ২৩৮ নম্বর বুথে সকাল থেকেই ভোটাররা লাইন দিয়ে ভোট দিয়েছেন। আর বিকের ৫টার মধ্যেই এই বুথের সব ভোটদান শেষ হয়ে যায়। নির্বাচনী কর্মকর্তারা বার বার সব তথ্য মিলিয়ে দেখছিলেন, কোনও ভুল হচ্ছে না তো! এই বুথে ভোটার ছিলেন ৫৩৬ জন। এর মধ্যে ১২১ জন হিন্দু ও ৪১৫ জন মুসলিম। ৫ টার মধ্যে ৫৩৩ জন (৯৯.৪৪ শতাংশ) তাদের ভোট দিয়ে ফেলেছিলেন। একজন ভোট দিয়েছিলেন পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে। ফলে বুথটিতে মোট ভোটদানের হার ছিল ৯৯.৬২ শতাংশ। জেলার একজন নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, দুজন ভোটার অসুস্থ ও শয্যাশায়ী হওয়ায় ভোট দিতে পারেননি।
মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ, ভগবানগোলা এবং লালগোলার মতো কেন্দ্রগুলিতে, যেখানে ৮০ শতাংশেরও বেশি ভোটার মুসলিম, সেখানে ভোটদানের হার ৯৫ শতাংশের বেশি ছিল।মুর্শিদাবাদের ডোমকল বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্য গরীবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭২ নম্বর বুথে ভোটদানের হার ছিল ৯৮ শতাংশ। একটি সূত্র জানিয়েছে, বুথটির ৭২৩ জন ভোটারই মুসলিম।
এই বুথের এক ভোটার জানান, ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা থেকে অনেক নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় ভোটদানে বিরত থাকার কারণে যদি আরও নাম বাদ দেওয়া হয়, তবে তা আমাদের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হবে। তাই, এবার (প্রায়) সব ভোটারই ভোট দিয়েছেন। অনেকেই ভোট দেয়ার পর বুথের সামনে ছবি তুলেছেন নিজের। নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো মানুষকে ভোট দিতে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, এসআইআর আতঙ্কেই এই ঘটনা ঘঠেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের একজন নির্বাচনী কর্মকর্তা বলেন, এসআইআর-এর পরিপ্রেক্ষিতে অনেকের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয় কাজ করেছে যে, যারা ভোট দেবেন না, তাদের নাম ভবিষ্যতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
একাধিক ভোটার নিশ্চিত করেছেন যে, যারা ভোট দেননি তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কার কারণেই অনেকে আগেভাগে ভোট দিয়েছেন।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.