দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করা, কৌশলগত সমন্বয় জোরদার করা এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে একটি নতুন বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছেছে পাকিস্তান ও চীন। মঙ্গলবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে। উভয় দেশ উচ্চমানের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে। বিশেষ করে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর ২.০ (সিপিইসি ২.০)-এর উন্নয়ন জোরদার করা এবং এর উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানানোর বিষয়েও সম্মতি দিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চার দিনের বেইজিং সফর শেষ করেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং লি চিয়াংয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও বিস্তৃত আলোচনা করে। শেহবাজ শরিফ চীন-পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝৌ শহরও সফর করেন।
দুই দেশ ‘চীন-পাকিস্তান বন্ধুত্বকে’ একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা বিভিন্ন প্রজন্মের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতেও অটল রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় পক্ষ ২০২৫-২০২৯ কর্মপরিকল্পনার আওতায় আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ অভিন্ন ভাগ্যসহ চীন-পাকিস্তান কমিউনিটি গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছে।
চীনের কর্মরত নাগরিক, প্রকল্প ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তান। চীন পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় দেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে এবং দ্বৈত মানদণ্ড বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসবিরোধী ইস্যু ব্যবহারের বিরোধিতা করেছে। এছাড়া উভয় পক্ষ বলেছে, কোনও গোষ্ঠী যেমন তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইস্টার্ন তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্ট (ইটিআইএম)’কে কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে দেয়া যাবে না।
পাকিস্তান এক চীন নীতির প্রতি তার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। এতে বলা হয়েছে, তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ইসলামাবাদ জিনজিয়াং, জিজাং (তিব্বত), হংকং ও দক্ষিণ চীন সাগর বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থানকেও সমর্থন করেছে। চীনও পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখ-তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
দুই দেশ বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা জোরদার এবং সিপিইসি ২.০ কাঠামোর অধীনে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া কারাকোরাম হাইওয়ে পুনঃনির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গোয়েদার বন্দরকে আঞ্চলিক সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর প্রকল্পে তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণকেও স্বাগত জানানো হয়েছে।
উভয় দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক বিশ্বব্যাপী শাসন ব্যবস্থার জন্য চীনের প্রস্তাবিত ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন’ গঠনে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তান ও চীন জাতিসংঘকেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শাসন ব্যবস্থার সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে।