06/19/2026 ম্যাকলসফিল্ড উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহামের জয়, স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার পথ উন্মুক্ত
মুনা নিউজ ডেস্ক
১৯ জুন ২০২৬ ১৮:৫২
বৃটেন মেকার্সফিল্ডের গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার পথ সুগম হলো। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের এই সাবেক মেয়র রিফর্ম ইউকে-এর প্রার্থী রবার্ট কেনিয়নকে ৯,২৩১ ভোটে পরাজিত করেছেন। নতুন কট্টরপন্থী দল রিস্টোর বৃটেন এই নির্বাচনে অনেক পিছিয়ে থেকে তৃতীয় স্থান পেয়েছে।
নির্বাচনে লেবার পার্টি ৫৪.৮ ভাগ ভোট পেয়েছে, যেখানে রিফর্ম ইউকে পেয়েছে ৩৪.৫ ভাগ এবং রিস্টোর বৃটেন ৭ ভাগ ভোট পায়। নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল ৫৮.৭৫ ভাগ, যা গত সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় ছয় ভাগ বেশি। এতে মোট ৪৫,৫১০টি ভোট পড়েছে। বিজয়ী ভাষণে বার্নহাম বলেন, এই ফলাফল একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে, উত্তর বৃটেনের আরও ক্ষমতার পক্ষে এবং ওয়েস্টমিনস্টারের ভুলে যাওয়া সব জায়গার পক্ষে ভোট দিয়েছে। তিনি এটিকে লেবার পার্টির পরিবর্তনের জন্য ‘চূড়ান্ত সুযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আর কোনো দ্বিতীয় সুযোগ আসবে না। আজকের রাতের এই ফলাফল থেকে একতা ও আশার ভিত্তিতে একটি নতুন রাজনীতি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিভক্ত রাজনীতির পথ থেকে নিরাপদ রাখবে। আধুনিক বৃটেন ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই উপনির্বাচনের পর, আগামী দিনগুলোতে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা শুরু হলে বার্নহাম ডাউনিং স্ট্রিটের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রিফর্ম ও রিস্টোর উভয় দলের সম্মিলিত ভোটের চেয়েও ৬,১০০টির বেশি ভোট পেয়েছেন বার্নহাম, যা লেবার পার্টির এমপি এবং সদস্যদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্টারমার এই জয়ের জন্য বার্নহামকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভোটাররা বিভাজন ও ঘৃণার চেয়ে লেবার পার্টির আশা ও আশাবাদের প্রচারণাকে বেছে নিয়েছে। সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি রিফর্ম-বিরোধী জোটের সমর্থন পেয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। কনজারভেটিভ, লিবারেল ডেমোক্রেট এবং গ্রিন পার্টি মিলে মাত্র ৩ ভাগ ভোট পেয়েছে। ২০২৪ সালে এই তিন দল সম্মিলিতভাবে এই নির্বাচনী এলাকায় ২২ ভাগ ভোট পেয়েছিল। ‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাত বার্নহাম, যিনি ২৫ বছর আগে প্রথমবার সংসদে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারে দায়িত্ব পালন করেন। বার্নহাম এমপি হওয়ার কারণে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র পদটি শূন্য হলো। এর ফলে লেবার পার্টিকে এখন রিফর্ম ইউকে-এর বিরুদ্ধে আরেকটি কঠিন নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। ২০ লাখ ভোটারের এই উপনির্বাচন বৃটেন রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় উপনির্বাচন হতে যাচ্ছে, যা আগামী ৩০শে জুলাই অনুষ্ঠিত হতে পারে। মেকার্সফিল্ডের তৎকালীন লেবার এমপি জশ সাইমনস গত মাসে পদত্যাগ করতে সম্মত হওয়ায় এই উপনির্বাচনের পথ তৈরি হয়, যাতে বার্নহাম এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন এবং স্টারমারের দুর্বল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে বৃটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের বিতর্কিত নিয়োগ এবং গত মে মাসে নির্বাচনে লেবার পার্টির ১,২০০-এর বেশি স্থানীয় কাউন্সিলর পদে পরাজয় ও ওয়েলশ সেনেডের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি উঠছিল।
তবে স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও উইগানের এমপি লিসা নন্দী এই বিজয়কে ‘ইতিহাস সৃষ্টি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাবেক ক্যাবিনেট মন্ত্রী লুইস হেইগ, যিনি বার্নহামের প্রচারণার ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে কিয়ার স্টারমার দেশ এবং লেবার পার্টি উভয়ের জন্যই যা সবচেয়ে ভালো, সেটিই করবেন। এই ফলাফল রিফর্ম ইউকে-এর জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ গত মাসের স্থানীয় নির্বাচনে তারা এই মেকার্সফিল্ড এলাকার প্রতিটি কাউন্সিল ওয়ার্ডে প্রায় অর্ধেক ভোট পেয়ে জয়ী হয়। তখন লেবার পার্টি মাত্র এক চতুর্থাংশ ভোট পায়। তবে উপনির্বাচনে বার্নহামের এই বড় জয় প্রমাণ করেছে যে লেবার পার্টি তাদের পুরোনো ঘাঁটিতে ভোটারদের মন জয় করে ফিরে আসতে পেরেছে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.