06/20/2026 দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি তহবিল পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
মুনা নিউজ ডেস্ক
২০ জুন ২০২৬ ১৮:০৩
দক্ষিণ আফ্রিকায় এইডস ও এর বিস্তার মোকাবেলার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মসূচিগুলোতে অর্থায়ন পর্যায়ক্রমে বন্ধের করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আশি লাখেরও বেশি দক্ষিণ আফ্রিকান এইচআইভি নিয়ে জীবনযাপন করছেন,যা বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্তকে শ্বেতাঙ্গ-সংখ্যালঘু আফ্রিকানার সম্প্রদায়কে সুরক্ষা প্রদানে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যদিও তাদের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানানো হয়নি। তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি আত্মনির্ভরশীলতার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে আসছিল।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৩ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘প্রেসিডেন্ট'স ইমার্জেন্সি ফান্ড ফর এইডস রিলিফ’ (পেপফার) চালু করেন। গত দুই দশকে এটি ৫০টিরও বেশি দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ২৫ মিলিয়ন জীবন বাঁচিয়েছে ও লাখ লাখ লক্ষ নতুন এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ করেছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকাকে শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের বিরুদ্ধে বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। এরপর গত এক বছরে দেশটির এইচআইভি কর্মসূচি থেকে মার্কিন অর্থায়ন ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা সেমাফোরকে বলেছেন, প্রশাসনের নীতিগত অনুরোধের বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সেখানে পেপফার কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল সরকারের ব্যয় কমানোর জন্য তার প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এক্ষেত্রে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয় দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর, যেখানে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এইচআইভি আক্রান্ত মানুষ বাস করে।
২০০৩ সাল থেকে এইচআইভি আক্রান্তদের সেবা প্রদান এবং ভাইরাসের বিস্তার রোধকারী ওষুধ বিতরণের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে। যদিও গত দুই বছর সেখানে পাঠানো তহবিল অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে।
এই মাসের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ঘোষণা করেন, দেশটি গিলিয়াড কোম্পানির বছরে দুবার সেবনের এইচআইভি প্রতিরোধক ওষুধ লেনাক্যাপাভির চালু করার জন্য তাদের সঙ্গে কাজ করছে। যার জেনেরিক সংস্করণ সেখানে তৈরি ও বিক্রি করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, অর্থায়ন বন্ধে করে দেওয়া হলে বিশ্বব্যাপী অসংখ্য মানুষ এইচআইভিতে সংক্রমিত হতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এবং কংগ্রেসে তাদের কিছু রিপাবলিকান মিত্র বলেছেন, এই কর্মসূচিটি কখনই স্থায়ী করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি এবং এটি বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পেপফার দেশটির এইচআইভি কর্মসূচিতে অবদান রাখলেও, জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের সরবরাহের জন্য সম্পূর্ণ আলাদাভাবে অর্থায়ন করা হয়েছিল, যার বেশিরভাগই আসে সরকার থেকে। যুক্তরাষ্ট্র গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর সম্মেলন জি-২০-ও বর্জন করেছিল।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.