06/23/2026 যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের ঘোষণা
মুনা নিউজ ডেস্ক
২২ জুন ২০২৬ ১৭:০২
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির দলীয় প্রধান হিসেবেও সরে দাঁড়াবেন তিনি। সোমবার ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
স্টারমার বলেন, তাঁর দল লেবার পার্টির নতুন দলীয় নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন। আজ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্টারমার। পাশাপাশি তিনি তাঁর উত্তরসূরিকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকারও করেন।
স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন যে প্রশ্নটি করছে, তা হলো—পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি এখনও সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কিনা। এ প্রশ্নের বিষয়ে আমার পার্লামেন্টারি দলের যে উত্তর আমি শুনেছি, তা আমি সম্মানের সঙ্গে এবং উদারচিত্তে মেনে নিচ্ছি।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে আমার প্রিয় দেশকে সবার আগে রাখার চিন্তাই কাজ করেছে। আর সে কারণেই আমি লেবার পার্টির নেতা হিসেবে পদত্যাগ করছি।’
স্টারমার বক্তব্য দেওয়ার শেষের দিকে তাঁর চোখে পানি দেখা গেছে। বক্তব্য শেষ করার সময় তাঁর কণ্ঠও আবেগে ভারী হয়ে ওঠে।
স্টারমারের পদত্যাগ করার ঘোষণার মধ্য দিয়ে এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী আসার পথ পরিষ্কার হয়ে গেল।
যুক্তরাজ্যের রক্ষণশীল দলের সাবেক চার প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে, বরিস জনসন, লিজ স্ট্রাস ও ঋষি সুনাক
কয়েক মাস ধরেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর চাপ বেড়েছে। গত শুক্রবার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম পার্লামেন্টে একটি আসনে উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করলে সেই চাপ হঠাৎ করে আরও বেড়ে যায়।
বার্নহামের ওই জয়ে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানানো এবং তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনে মধ্যপন্থী-বাম ঘরানার লেবার পার্টিকে নিরঙ্কুশ বিজয় এনে দেন স্টারমার। তবে একের পর এক বিতর্ক ও নীতিগত অবস্থান বদলের কারণে তাঁর জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এতে অনেক ভোটারের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্টারমার সক্ষম নন।
যুক্তরাজ্যের শাসনব্যবস্থায় যে রাজনৈতিক দল পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, সেই দলের নেতাই সাধারণত দেশের প্রধানমন্ত্রী হন।
বর্তমানে লেবার পার্টি পার্লামেন্টে বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে। তাই স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত করতে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আগে লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচন করতে হবে। স্টারমার বলেছেন, তিনি তাঁর দলকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলবেন। নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য ৯ জুলাই থেকে প্রার্থীদের মনোনয়ন গ্রহণ শুরু করার জন্য তিনি প্রস্তাব দেবেন।
স্টারমারের আশা, সেপ্টেম্বর মাসে পার্লামেন্টের শরৎকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন দলীয় নেতা এবং নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.