08/13/2026 নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী রক্তচাপ কমানোর ওষুধের আওতায় আসতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক
মুনা নিউজ ডেস্ক
১৩ আগস্ট ২০২৬ ২০:২৬
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা না নেওয়া উচ্চ রক্তচাপের রোগী যাদের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি (১০ মিলিয়ন), নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী তারা রক্তচাপ কমানোর ওষুধের আওতায় আসতে পারেন।
গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, সঠিক চিকিৎসা না নেওয়া প্রতি তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে অন্তত একজন এই হালনাগাদ করা পদ্ধতির মাধ্যমে উপকৃত হবেন। চিকিৎসকদের মতে, এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে আগামী এক দশকে লাখ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে।
‘আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলোজি’র প্রকাশিত ২০২৫ সালের নতুন গাইডলাইনে রক্তচাপের ওষুধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর সামগ্রিক হৃদরোগের (কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ) ঝুঁকির ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকেরা এই ক্ষেত্রে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ‘প্রিভেন্ট’ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন। এটি রক্তচাপ, রক্তে শর্করা বা ব্লাড সুগার, কিডনির কার্যকারিতা এবং আগামী ১০ বছরে হৃদরোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে ওষুধ দেওয়ার পরামর্শ দেয়।
নতুন এই কাঠামোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ রক্তচাপে ভোগা প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ ওষুধের আওতায় আসার সুযোগ পাবেন। এর আগে যাদের হৃদরোগের জটিলতা ছিল না কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ ছিল, এমন চিকিৎসা না পাওয়া ২ কোটি ৩০ লাখ প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে প্রায় ৯৭ লাখ মানুষ এবার নতুন করে চিকিৎসার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
পূর্বে যাদের রক্তচাপের মাত্রা ১৩০/৮০ মিমি এইচজি-এর কাছাকাছি থাকত, সামগ্রিক ঝুঁকি বিবেচনায় তাদের সাধারণত ওষুধ দেওয়ার বদলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও ব্যায়ামের মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হতো। তবে নতুন গাইডলাইনটি অতিরিক্ত ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের সরাসরি ওষুধ দেওয়ার পথ সহজ করেছে।
গবেষকেরা ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সংগৃহীত ‘ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভে’র তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। সেই সময়কালে যদি এই নতুন গাইডলাইন প্রয়োগ করা হতো, তবে কী প্রভাব পড়ত—তা তারা হিসাব করে দেখেছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধ চিকিৎসার যোগ্য হওয়ার পরও যারা চিকিৎসা নেননি, তাদের তুলনায় যারা চিকিৎসা পেয়েছেন তাদের যেকোনো কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি আনুমানিক ২৩ শতাংশ কম ছিল। এ ছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।
হিসাব অনুযায়ী, এই বিস্তৃত চিকিৎসা পদ্ধতি ১০ বছরে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ৬০০টি হৃদরোগজনিত মৃত্যু এবং যেকোনো কারণে হতে যাওয়া ২ লাখ ৯০০টি অকাল মৃত্যু রোধ করতে পারত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা এতে ব্যাপকভাবে উপকৃত হতে পারেন, কারণ উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস একসঙ্গে থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য কেবল ওষুধই একমাত্র সমাধান নয়। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, সুষম খাদ্য গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, মানসিক চাপ কমানো এবং ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন করা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
পাশাপাশি নিয়মিত ওষুধ খাওয়াও জরুরি। ‘জামা কার্ডিওলোজি’র এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক উচ্চ রক্তচাপের রোগী নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন না। চিকিৎসকেরা প্রতিদিনের নির্দিষ্ট কাজের সময়ে (যেমন টুথব্রাশের পাশে ওষুধ রাখা বা অ্যালার্ম দেওয়া) ওষুধ খাওয়ার নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া পাশ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
গবেষণায় অল্প বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকি শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা রয়েছে।
গবেষকদের মতে, সঠিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি উপযুক্ত ওষুধের সমন্বয় স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং অকাল মৃত্যুর দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে। তবে রক্তচাপের মাত্রা, শারীরিক ঝুঁকি ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.