08/19/2026 সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় ট্রাম্পের ক্ষোভ, বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা
মুনা নিউজ ডেস্ক
১৯ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৩৯
সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তার ঠেকাতেই হামলাটি চালানো হয়েছে বলে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে জানিয়েছে।
তবে হামলার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এতে ওয়াশিংটন, তেল আবিব ও আঙ্কারার মধ্যকার সম্পর্কেও নতুন করে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে অন্তত আটটি বোমা ফেলে ইসরায়েলি বাহিনী। তুরস্কের সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৫ মাইল দূরে অবস্থিত ওই ঘাঁটির সম্প্রতি নির্মিত একটি রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হামলার পর শুরুতে ইসরায়েল বিষয়টি অস্বীকার করে এবং খবর প্রকাশে সামরিক সেন্সরশিপ জারি করে। পরে সিরিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও তুরস্কে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হামলার বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় সামরিক উত্তেজনা’ হিসেবে উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
হামলার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করে। এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তারা দাবি করে, সিরিয়া একটি চুক্তি লঙ্ঘন করে আলেপ্পোর কাছে ওই বিমানঘাঁটিতে তুরস্ককে সেনা মোতায়েনের সুযোগ দেওয়ার পথে ছিল। ইসরায়েলের দাবি, সিরিয়াকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তারা তা উপেক্ষা করেছে এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের হুমকি মেনে নেওয়া হবে না।
তবে সিরিয়া সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিমানঘাঁটির রানওয়ে সংস্কারের পেছনে কোনো শত্রুতামূলক উদ্দেশ্য নেই—এমন বার্তা আগেই ইসরায়েলকে দেওয়া হয়েছিল। তুরস্কের এক কর্মকর্তাও দাবি করেছেন, হামলার সময় ওই ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সেনা উপস্থিত ছিল না। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েল একের পর এক অজুহাত তৈরি করছে।
সিরিয়া ও তুরস্ক উভয় সরকারই ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে ট্রাম্প প্রশাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জ্যেষ্ঠ যুক্তরাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা মনে করছেন, ইসরায়েলে আসন্ন অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও হামলাটি চালিয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, সিরিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেও তেল আবিব এতে সাড়া দেয়নি। বরং সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকায় দামেস্ক আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিতে বাধ্য হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন সিরিয়াকে আপাতত সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইসরায়েলের নির্বাচন শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে স্থায়ী সমাধানের পথে এগোনোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.