08/29/2026 ভেনিজুয়েলার তেলের মজুদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতে তেল চুক্তির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৯ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৫৯
যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন বা সাড়ে ছয় হাজার কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেল মজুত নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘এই ঐতিহাসিক লেনদেন আমেরিকার তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াবে, আমাদের তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে এবং সব আমেরিকানের জন্য গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে।’
ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি তার দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে।
এ বছর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুতের অধিকারী ভেনিজুয়েলার তেলসম্পদ কাজে লাগানোর কথা বলেছিলেন ট্রাম্প।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ট্রাম্পের ওপর চাপও বেশ বাড়ছিল।আরব সংস্কৃতি জানুন
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই তেল চুক্তিকে ‘আমেরিকান ও ভেনিজুয়েলার উভয় জনগণের জন্য একটি বিশাল বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে চুক্তিটির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘ভেনিজুয়েলার জনগণের জন্য এই চুক্তি প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আসবে, হাজার হাজার উচ্চ-বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ভেনিজুয়েলার অর্থনীতি পুনর্গঠনে গতি আনবে।’
ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ‘বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে’ ভেনিজুয়েলার নেতৃত্বের সাথে আলোচনা করে এই চুক্তিতে পৌঁছেছেন।
তবে তিনি এই অংশীদারিত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিশ্রুতি বা শর্তগুলোও তিনি ব্যাখ্যা করেননি।
ট্রাম্প শুধু দাবি করেছেন, এই চুক্তি ‘আমেরিকান করদাতাদের কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই’ সম্পন্ন হয়েছে।
ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই চুক্তি তার দেশের পুনরুজ্জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।
এর মাধ্যমে দেশটির হাইড্রোকার্বন শিল্পের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে বিনিয়োগ আসবে।
রদ্রিগেজ বলেছেন, এই চুক্তির আওতায় ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুতের সম্ভাবনা আছে- এমন ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি এতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ এবং রাষ্ট্রের জন্য ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর আসবে।
তিনি আরো বলেন, ‘এই বিনিয়োগ শুধু আমাদের শিল্পের পুনরুদ্ধার কিংবা আধুনিকায়নেই অবদান রাখবে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সমগ্র অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আরো ভারসাম্য আনতেও সহায়তা করবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বিবিসির মিডিয়া পার্টনার জানান, এই চুক্তির অধীনে ভেনিজুয়েলার একটি ‘অভিজ্ঞ বেসরকারি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের’ সাথে গঠিত যৌথ উদ্যোগের ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্প প্রশাসন ধরে রাখবে।
ওই কর্মকর্তা জানান, রদ্রিগেজ এই যৌথ উদ্যোগকে তেলক্ষেত্রগুলো পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের অনুমোদন দিয়েছেন।
গত ৩ জানুয়ারি ট্রাম্পের অনুমোদিত বিশেষ বাহিনীর এক অভিযানে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়।
অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প বলেছিলেন, একটি ‘নিরাপদ, যথাযথ ও বিচক্ষণ হস্তান্তর’ না হওয়া পর্যন্ত তার প্রশাসন ভেনিজুয়েলা পরিচালনা করবে।
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেল বিক্রির ওপর অনির্দিষ্টকাল নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।
ভেনিজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে, যার পরিমাণ আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। তবে ১৯৯০-এর দশকের শেষদিকে উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকে দেশটির তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনিজুয়েলার তেল শিল্প পুনরুদ্ধারের জন্য কমপক্ষে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে বলেছেন।
তিনি দাবি করেছেন যে, ভেনিজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অধিকার রয়েছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ, দেশটি অতীতে ‘একতরফাভাবে আমেরিকান তেল, আমেরিকান সম্পদ এবং আমেরিকান তেল উত্তোলন প্ল্যাটফর্ম দখল করে বিক্রি করেছে’, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ ক্ষতি হয়েছে।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.