08/29/2026 মজুত কমে যাওয়ায় সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত
মুনা নিউজ ডেস্ক
২৯ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৩৫
ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের মধ্যভাগের বিস্তৃত প্রান্তরে বহুতল ভবনের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে শত শত স্টিলের তৈরি তেলের ট্যাংক। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এই বেসরকারী তেল মজুতাগারের মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৯ কোটি ব্যারেল। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির তীব্র চাহিদা ও চলমান যুদ্ধের ৬ মাসের ব্যবধানে বর্তমানে এই বিশাল ট্যাংকিং হাবটিতে জমাকৃত তেলের পরিমাণ নেমে এসেছে মাত্র ২ কোটি ২২ লাখ ব্যারেলে—যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্ব সর্বনিম্ন।
সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তেল বিপণন ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের জমানো মজুত থেকে দ্রুত তেল তুলে বিক্রি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যবর্তী সংঘাত বা যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং গতিপথের ওপর নির্ভর করছে এই মজুতের ভবিষ্যত। তবে বিশ্বজুড়ে পলিসি মেকার এবং তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যেই জ্বালানি খাতের সম্ভাব্য বড় ধরনের ধাক্কা বা "এনার্জি শক" এড়াতে বিকল্প উপায়ে নতুন মজুত গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
এমনকি সউদী আরবের মতো পারস্য উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোও নিজেদের সীমানার বাইরে এবং হরমুজ প্রণালীর মতো ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ থেকে দূরে আন্তর্জাতিক নিরাপদ স্থানে নতুন তেল ভাণ্ডার গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগের চিন্তাভাবনা করছে।
ওকলাহোমার ছোট শহর 'কুশিং' (Cushing)—যা একসময় আমেরিকার অন্যতম প্রাচীন অয়েল বুমটাউন ছিল। ১৯১২ সালে এখানে প্রথম বাণিজ্যিক তেলের কূপ খনন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯২০-এর দশকে পাইপলাইনের বিস্তার ঘটে। উৎপাদনের প্রাথমিক ধামাকা কমে গেলেও শহরটির ভৌগোলিক অবস্থান ও পাইপলাইনের নেটওয়ার্কের কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের তেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাব বা লেনদেনের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
১৯৮৩ সাল থেকে নিউ ইয়র্ক মারকেন্টাইল এক্সচেঞ্জ (NYMEX) তাদের বিখ্যাত "ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট" (WTI) ক্রুড অয়েল চুক্তির জন্য কুশিং শহরকেই প্রাইসিং হাব হিসেবে নির্ধারণ করে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (EIA) দেওয়া তথ্য মতে, কুশিং-এর মজুত প্রায় সর্বনিম্ন কার্যকরী বা অপারেশনিং লেভেলে (Minimum Operating Levels) পৌঁছে গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এ স্তরের নিচে তেল তুলে নিলে সেখানকার মূল যন্ত্রপাতি—যেমন তেলের ওপর ভাসমান স্টিলের ছাদ বা মিক্সারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একই সংকট দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কৌশলগত তেল মজুতেও (Strategic Petroleum Reserve)। ফেডারেলে সংরক্ষিত এই তেলের পরিমাণ ১৯৮২ সালের পর বর্তমানে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
করোনা মহামারীর প্রাথমিক সময়ে লকডাউনের কারণে যখন জ্বালানির চাহিদা একদম কমে গিয়েছিল, তখন কুশিং-এর ট্যাংকগুলো কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং তেলের দাম ঋণাত্মক (Sub-Zero) পর্যায়ে নেমেছিল। কিন্তু বর্তমান চিত্র ঠিক উল্টো—বাজারে তেলের ঘাটতি থাকায় এবং চড়া দামের কারণে ব্যবসায়ীরা তেল ধরে না রেখে সরাসরি শোধনাগার বা বাজারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।
ইউএস ডিজেলের গড় মূল্য ইতিমধ্যেই এই বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ডের কাছাকাছি চলে এসেছে। যুদ্ধের ব্যাপ্তি যত দীর্ঘায়িত হবে, জ্বালানি তেল শোধন ও পরিবহনের বৈশ্বিক অবকাঠামো ততই নড়বড়ে হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
A Publication of MUNA National Communication, Media & Cultural Department. 1033 Glenmore Ave, Brooklyn, NY 11208, United States.