অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জন রাশিয়ার কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে হাঙ্গেরি। মঙ্গলবারের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে রুশপন্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের শাসনের ঘনিষ্ঠতার দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসানের ইঙ্গিত দিল।
এক বিবৃতিতে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা অরবান বলেন, বহিষ্কৃত কূটনীতিকরা হাঙ্গেরিতে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যা ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনীতিকদের জন্য অগ্রহণযোগ্য। তবে কূটনীতিক বহিষ্কারের সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে না হাঙ্গেরি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংলাপ অব্যাহত রাখতে চায় বুদাপেস্ট।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, হাঙ্গেরির এই সিদ্ধান্তের পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, মস্কোর প্রতিক্রিয়া হাঙ্গেরির জন্য ‘বেদনাদায়ক’ হবে।
দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে বিদায় নেন ভিক্টর অরবান। দীর্ঘ শাসনামলে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। এমনকি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পরও মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে তার সরকার।
অরবানের আমলে হাঙ্গেরি রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখে।
ইউক্রেনে রুশ হামলার পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশ রাশিয়ার কয়েক ডজন কূটনীতিককে বহিষ্কার করলেও হাঙ্গেরি কোনো রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেনি। এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে কোনো রুশ কূটনীতিককে দেশ থেকে ফেরত পাঠিয়েছিল বুদাপেস্ট।
এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার ও তার মধ্য-ডানপন্থি সরকার শুরু থেকেই বলে আসছে, হাঙ্গেরির প্রধান জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো। ভিক্টর অরবানের শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত আন্তর্জাতিক আস্থা পুনর্গঠন করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
গত মে মাসে পার্লামেন্টের এক শুনানিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা অরবান বলেন, রাশিয়া হাঙ্গেরির অংশীদার হিসেবে থাকবে। তবে দুই দেশের সম্পর্ক কোনোভাবেই ‘একতরফা নির্ভরতার’ ওপর ভিত্তি করে হতে পারে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রাশিয়ার নীতিগুলো হাঙ্গেরি ও ইউরোপের জন্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।