ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি বছরের প্রথম দিন, আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি), একটি অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পবিত্র কোরআন হাতে শপথ গ্রহণ করলেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কের ইতিহাসে তিনি প্রথম মেয়র যিনি এই পবিত্র ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করে শপথ নিলেন।
গত ৪ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি পরাজিত করেন নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে। মামদানি এই শহরের প্রথম মুসলিম মেয়র।
সাবওয়ে স্টেশনে শপথ গ্রহণ
৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটি হলের নিচে অবস্থিত একটি অব্যবহৃত সাবওয়ে স্টেশনে শপথ নেন। এসময় তার পাশে ছিলেন স্ত্রী রমা দুয়াজি। এই শপথের মধ্য দিয়ে মামদানি নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় এবং প্রথম আফ্রিকা-বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন।
তার রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমসের পরিচালনায় এই শপথ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। শপথ গ্রহণের পর মামদানি তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "এটি সত্যিই সম্মানের।"
মামদানির কার্যালয় জানিয়েছে, নতুন মেয়র সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে চান। শপথ অনুষ্ঠানকে সাদাসিধে রাখার মধ্য দিয়ে তার সেই ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।
ঐতিহাসিক কোরআনের কপি
সাবওয়ে স্টেশনের বিশেষ অনুষ্ঠানে মামদানির হাতে পবিত্র কোরআনের দুটি কপি ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল জোহরানের দাদার ব্যবহৃত কপি এবং অন্যটি ছিল আঠারো শতকের শেষভাগ বা উনিশ শতকের শুরুর দিকের একটি পকেট কোরআন। নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরির শমবার্গ সেন্টার ফর রিসার্চ ইন ব্ল্যাক কালচারের সংগ্রহ থেকে এই ঐতিহাসিক ক্ষুদ্রাকৃতির কপিটি নেওয়া হয়েছে।
আগামীকাল, শুক্রবার (২ জানুয়ারি), জোহরান মামদানি জনসমক্ষে নিউইয়র্ক সিটি হলে আরও একটি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি তার দাদা ও দাদীর কাছ থেকে পাওয়া কোরআনটি সঙ্গে রাখবেন।
মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিচ্ছবি
আমেরিকার সবচেয়ে জনবহুল শহর নিউইয়র্কে মুসলিমদের একটি উল্লেখযোগ্য ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি রয়েছে। তাদের সেই উপস্থিতি প্রতিফলিত করতেই মামদানি পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নেন। পবিত্র কোরআনের একটি পুরনো কপি নির্বাচনের জন্য তার স্ত্রী রমা দুওয়াজিকে একজন গবেষক সহযোগিতা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ফেডারেল, স্টেট বা সিটির সংবিধান অনুযায়ী শপথের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ ব্যবহার করার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে এর আগে নিউইয়র্কের প্রায় সব মেয়রই পবিত্র বাইবেল হাতে শপথ নিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় জোহরান মামদানি জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিয়েছিলেন এবং একই সাথে তিনি তার মুসলিম পরিচয় নিয়ে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। বিভিন্ন মসজিদে নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমে তিনি মুসলিমদের শক্তিশালী সমর্থন অর্জন করেন। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়া দক্ষিণ এশীয় মুসলিমরা তার সমর্থকের বড় অংশ ছিল।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: