২ বছরের জন্য বন্ধ কেনেডি সেন্টার, শিল্পীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:১৮

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

শিল্পী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তীব্র আপত্তির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কেনেডি সেন্টার বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংস্কার ও পুনর্গঠনের কথা বলে আগামী জুলাই থেকে টানা দুই বছর কেন্দ্রটি বন্ধ রাখার পরিকল্পনা জানানো হয়েছে। এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস দুই বছরের জন্য বন্ধ রাখার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী জুলাই থেকে শুরু করে সংস্কারকাজের জন্য কেন্দ্রটি বন্ধ রাখা হবে বলে জানান তিনি।

রোববারের এই ঘোষণাটি এমন সময়ে সামনে এলো যখন কেন্দ্রটির আগের নেতৃত্ব সরিয়ে দেয়া এবং ভবনের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করার প্রতিবাদে একের পর এক নামকরা শিল্পী, সংগীতশিল্পী ও দল তাদের পরিবেশনা বাতিল করেছেন। তবে ট্রাম্প তার ঘোষণায় এসব প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ‘ট্রাম্প কেনেডি সেন্টার’-কে সাফল্য, সৌন্দর্য ও জাঁকজমকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দ্রুততম উপায় হলো প্রায় দুই বছরের জন্য বিনোদনমূলক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা’। তিনি আরও বলেন, ‘এই সাময়িক বন্ধ দ্রুততর ও অনেক উন্নতমানের ফল দেবে।’

আল জাজিরা বলছে, আগামী ৪ জুলাই থেকে এই বন্ধ কার্যকর হবে। ওই দিনটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসও উদযাপিত হবে। ট্রাম্প জানান, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। উল্লেখ্য, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এই বোর্ডের সদস্যদের তিনি নিজেই বেছে নিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট বলেন, কনসার্ট, অপেরা, মিউজিক্যাল, ব্যালে ও বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাকটিভ শিল্পকলা আয়োজন চলতে থাকলে নির্মাণ ও সংস্কারকাজে বিলম্ব হবে। সে কারণে পুরো কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখাই প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘নির্মাণ, পুনরুজ্জীবন ও সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের জন্য যদি ট্রাম্প কেনেডি সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়, তবে নিঃসন্দেহে এটি বিশ্বের সেরা পারফর্মিং আর্টস কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ও সুন্দর এই স্থাপনাটি নিয়ে আগামী প্রজন্মের পর প্রজন্ম গর্ব করবে।’

এদিকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেনেডি সেন্টারের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই কমপ্লেক্সটি শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৬৪ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ডের পর কংগ্রেস এটি তার স্মরণে একটি ‘জীবন্ত স্মৃতিসৌধ’ হিসেবে নামকরণ করে।

১৯৭১ সালে কেন্দ্রটি উদ্বোধন হয় এবং তখন থেকেই এটি ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রাসহ বিভিন্ন শিল্পকলার নিয়মিত মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ট্রাম্প কেন্দ্রটির বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ার পর তার নীতির প্রতিবাদে বহু শিল্পী ও বিনোদনকর্মী সেখানে পরিবেশনা বাতিল করেন।

এছাড়া ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরাও সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, তারা কেনেডি সেন্টার ছেড়ে যাবে। যদিও কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পর থেকেই এটিই তাদের স্থায়ী ঠিকানা ছিল।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: