ফাইল ছবি
ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে দেশটির তেল শিল্পে চীনা বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, নিকোলাস মাদুরোর পতনের পর দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে টেনে তুলতে চীনের বিনিয়োগ অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুদ রয়েছে এবং সম্প্রতি দেশটি তাদের জ্বালানি খাতে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দিতে আইন সংশোধন করেছে।
মাদুরের শাসনামলে চীন ছিল ভেনেজুয়েলার তেলের প্রধান ক্রেতা। তবে গত ৩ জানুয়ারি আমেরিকান বাহিনীর হাতে মাদুরো বন্দি হওয়ার পর বেইজিং ও কারাকাসের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সেই ধোঁয়াশা কাটিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে চীন যদি ভেনেজুয়েলায় এসে তেলের ব্যবসায় বড় কোনো চুক্তি করতে চায়, তবে ওয়াশিংটন তাকে স্বাগত জানাবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ভারতের সঙ্গেও একটি জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। এই চুক্তির ফলে ভারত এখন ইরান থেকে তেল কেনার বদলে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সংগ্রহ করবে।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, এখন থেকে তেলের লভ্যাংশ যুক্তরাষ্ট্র ও কারাকাস নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ভেনেজুয়েলার বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক চমৎকার এবং এর ফলে দেশটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হবে, যা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও লাভজনক হবে।
ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি কিউবা নিয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিলেও এখন তিনি একটি সমঝোতার কথা ভাবছেন।
ট্রাম্প জানান, কিউবার স্বাধীনতার প্রশ্নে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেন এবং এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট সদয় দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শন করবে। তার মতে, কিউবা নিজেই এখন সংকট উত্তরণে একটি সুষ্ঠু চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছে আসবে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: