ফাইল ছবি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান আরও জোরদার করে ঘোষণা করেছেন যে, দেশটিকে অবিলম্বের 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ' করতে হবে। শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, সামরিক চাপের মুখে থাকা ইরানের সামনে এখন আত্মসমর্পণ ছাড়া যুদ্ধ বন্ধের আর কোনো পথ খোলা নেই।
ওভাল অফিসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ট্রাম্প তাঁর এই অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি শর্তারোপ করেন যে, ইরান যদি নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে এবং একজন গ্রহণযোগ্য ও যোগ্য নেতা নির্বাচন করে, তবেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দেশটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে। এমনকি সঠিক নেতৃত্ব পেলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যা তাঁর ভাষায় হবে 'মেক ইরান গ্রেট এগেইন'।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একদিকে সিনেটে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা খর্ব করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, অন্যদিকে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব পর্যটন শিল্পে প্রায় ১১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিপরীতে, তেহরানও তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি নিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি 'মহাবিপর্যয়' হিসেবে অভিহিত করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সামরিক ও কূটনৈতিক এই টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এক জটিল ও অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: