ফাইল ছবি
ইরানে যুদ্ধের খরচের জন্য কংগ্রেসের কাছে ২০ হাজার কোটি (২০০ বিলিয়ন) ডলার চেয়েছে হোয়াইট হাউস। এই অর্থ ইরানের মোট জিডিপি-র প্রায় ৫০ শতাংশ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই সংঘাত ও অন্যান্য দেশকে দেওয়া পূর্ববর্তী সাহায্যের কারণে কমে যাওয়া গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরবরাহ পুনরায় পূরণ করার জন্য এই অর্থ প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত অস্থিতিশীল। আমাদের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনকে অনেক দেওয়ার ফলে তা কমে গেছে।’
বিবিসির খবরে বলা হয়, যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত বিলিয়ন ডলার সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘খারাপ লোকদের মারতে টাকা লাগে।’
পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু প্রথম সপ্তাহেই এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ১১.৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। আগামীকাল শনিবার এই সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ‘ইরানের উপর যুদ্ধ মিশন শেষে’ একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করনো হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে তহবিল চাওয়া হয়েছে।
মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, জেটটি নিরাপদে অবতরণ করেছে। পাইলটের অবস্থা স্থিতিশীল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ইরানি গুলিতে এফ-৩৫ বিমানটি আক্রান্ত হয়েছে।
পেন্টাগনের অনুমান, এ ধরনের প্রতিটি জেটের দাম ৭৭ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র বলেছেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমাদের যা করতে হতে পারে’ তার জন্য প্রতিরক্ষা বিভাগের আরও অর্থের প্রয়োজন।
২০ হাজার কোটি ডলারের অনুরোধটি বিভাগের ৮৩৮.৭ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বাজেটের অতিরিক্ত, যা জানুয়ারিতে কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছিল।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে কংগ্রেস ইউক্রেনকে সহায়তার জন্য আলাদাভাবে ১৮৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল অনুমোদন করেছে। তহবিল পর্যবেক্ষণকারী বিশেষ মহাপরিদর্শকের মতে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১১০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে।
রিপাবলিকান হাউস স্পিকার মাইক জনসন বৃহস্পতিবার বলেন, আমি নিশ্চিত যে, ইরান যুদ্ধের জন্য ২০ হাজার কোটি ডলারের অনুরোধটি ‘কোনো এলোমেলো সংখ্যা নয়’।
তিনি আরও বলেন, স্পষ্টতই এটি বিশ্বের জন্য একটি বিপজ্জনক সময়। আমাদের প্রতিরক্ষায় পর্যাপ্ত তহবিল সরবরাহ করতে হবে, এবং তা করার জন্য আমাদের একটি প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অন্যান্য অর্থনৈতিক প্রভাবও রয়েছে। এর সাথে সম্পর্কিত তেলের দামের উল্লম্ফন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
তবে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছে। সুদের হার বাড়ানোটা এই ইঙ্গিত হতে পারে যে ব্যাংকাররা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে চিন্তিত এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখে মূল্যবৃদ্ধির গতি কমানোর জন্য ঋণের খরচ বাড়াতে চেয়েছিলেন।
প্রশাসনের এই যুদ্ধ-তহবিলের অনুরোধ নভেম্বরের মধ্যবর্তী কংগ্রেসীয় নির্বাচনের আট মাসেরও কম সময় আগে কংগ্রেসের সাথে একটি কঠিন আইন প্রণয়নমূলক লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি করবে— এই তহবিল অবশ্যই কংগ্রেসকে অনুমোদন করতে হবে।
ইরানের শক্তি সামর্থ্য গুঁড়িয়ে দিতে ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা এই যুদ্ধ প্রায় তিন সপ্তাহ হতে চলল। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবমতে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৭ হাজার ৮০০ টি নিশানায় হামলা চালিয়েছে। ৮ হাজারের বেশি যুদ্ধবিমান উড়িয়েছে এবং ১২০ টির বেশি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করেছে।
ইরানে যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানে ব্যয় করেছে ১ হাজার ১শ’ কোটি ডলারের বেশি।
বিশ্বের পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাবে, এখন অতিরিক্ত আরও ২০ হাজার কোটি ডলার মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ খরচ ইরানের বার্ষিক জিডিপি’র অর্ধেকেরও বেশিতে দাঁড়াবে, ২০২৫ সালে যা ছিল ৩৫ হাজার ৬৫১ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির তথ্যমতে, কংগ্রেস এরই মধ্যে ২০২৬ সালের অর্থবছরের জন্য ৮৩ হাজার ৮৫০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা তহবিল অনুমোদন করেছে।
এবার পেন্টাগন, ইরান যুদ্ধের জন্য আরও ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি তহবিল কংগ্রেসে অনুমোদন করানোর জন্য হোয়াইট হাউজের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে খবর প্রকাশ করেছে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’।
হোয়াইট হাউজ শেষ পর্যন্ত কত পরিমাণ অর্থের জন্য কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের কাছে অনুমোদন চাইবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, এই অর্থ অনুমোদনের অনুরোধ নিয়ে কংগ্রেসে বড় ধরনের রাজনৈতিক লড়াই শুরু হতে পারে। যেহেতু এই প্রচেষ্টায় জনগণের সমর্থন তেমন নেই এবং ডেমোক্র্যাটরাও এর তীব্র বিরোধী।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: