১৬৫ বছরে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৭ মার্চ ২০২৬ ১৭:৪৪

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

আমেরিকার ১৬৫ বছরের দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে এই প্রথমবারের মতো দেশটির কাগজের মুদ্রায় যুক্ত হতে যাচ্ছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর। নতুন মুদ্রায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পাশাপাশি ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের স্বাক্ষরও থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী বা ‘সেমিকুইনসেন্টেনিয়াল’ উদযাপন উপলক্ষে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ।

এর ফলে গত ১৬৫ বছর ধরে নোটগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারারের স্বাক্ষর থাকার দীর্ঘ ঐতিহ্যের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের নোটগুলোতে ট্রেজারি সেক্রেটারির পাশাপাশি ইউএস ট্রেজারারের স্বাক্ষর থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, আগামী জুন মাস থেকে নতুন নকশার ১০০ ডলারের নোট ছাপানো শুরু হবে এবং পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা বাজারে ছাড়া হবে।

১৮৬১ সালে ফেডারেল কারেন্সি বা যুক্তরাষ্ট্রের ডলার প্রবর্তনের পর ট্রাম্পই হতে যাচ্ছেন প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট, যাঁর স্বাক্ষর সরাসরি নোটের ওপর স্থান পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের ফলে ডলারের নকশায় আরও একটি বড় পরিবর্তন আসছে। গত দেড় শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকনোটগুলোতে ট্রেজারের স্বাক্ষর থাকার যে অবিচ্ছিন্ন ধারা ছিল, তা এই নতুন নকশায় সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।

বর্তমান ট্রেজার ব্র্যান্ডন বিচ এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, এটি প্রেসিডেন্টের নেতৃত্ব এবং দেশের প্রতি তাঁর নিবেদনের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।

এর আগে সাবেক ট্রেজার লিন মালেরবা ছিলেন সেই দীর্ঘ ধারার শেষ প্রতিনিধি, যাদের স্বাক্ষর ১৮৬১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রায় দেখা গেছে। তবে বর্তমানে প্রচলিত সাবেক ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেন এবং লিন মালেরবার স্বাক্ষরযুক্ত নোটগুলোও নতুন সিরিজের পাশাপাশি বাজারে চালু থাকবে।

ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, দেশের ঐতিহাসিক অর্জন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো উপায় হতে পারে না। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ডলারের আধিপত্যের পথে রয়েছে, যা এই বিশেষ সময়ে মুদ্রায় প্রতিফলিত হওয়া অত্যন্ত যথাযথ।

প্রশাসন থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্টের নাম এবং কৃতিত্বকে জনমানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ এটি। এর আগে একটি ফেডারেল আর্টস প্যানেল ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ট্রাম্পের ছবি সম্বলিত একটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রার নকশাও অনুমোদন করেছে।

বিদ্যমান যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, ট্রেজারি বিভাগ মুদ্রার নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধির জন্য নকশা পরিবর্তনের ব্যাপক ক্ষমতা রাখে। তবে কিছু বিষয় যেমন ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ কথাটি এবং মৃত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ব্যবহারের নিয়ম অপরিবর্তিত রাখতে হয়। ফলে নোটের মূল নকশা ও ছবিগুলো আগের মতোই থাকছে, শুধু ট্রেজারের স্বাক্ষরের জায়গায় ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রতিস্থাপিত হবে।

যদিও জীবিত কোনো ব্যক্তির ছবি মুদ্রায় ব্যবহার করা আইনত নিষিদ্ধ হওয়ায় ট্রাম্পের ছবিযুক্ত ১ ডলারের সাধারণ কয়েন বাজারে আনার বিষয়টি আইনি বাধার মুখে পড়েছে, তবে কাগজের নোটে স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে এমন কোনো বাধা নেই। আগামী গ্রীষ্মকাল থেকেই এই নতুন মুদ্রা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: