ফাইল ছবি
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের হস্তক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পদোন্নতি তালিকা থেকে তিনজন নারী কর্মকর্তা বাদ পড়েছেন। এ ঘটনায় বাহিনীর নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সামনের দিনে তাদের পেশাগত অগ্রগতির একটি সীমা তৈরি হয়ে গেছে।
নৌবাহিনী মোট ৩১ জন ক্যাপ্টেন পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে ওয়ান স্টার অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতির জন্য নির্বাচন করেছিল। তবে হেগসেথের হস্তক্ষেপে তালিকা থেকে নয়জনকে বাদ দেয়া হয়, যাদের মধ্যে তিনজন নারী এবং দুজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ ছিলেন। এমন তথ্য জানিয়েছে একটি প্রতিরক্ষা সূত্র।
এর ফলে এ বছর ওয়ান-স্টার অ্যাডমিরাল পদে কোনো নারী কর্মকর্তার পদোন্নতি হচ্ছে না। অন্যদিকে ২০২৪ সালের সামরিক তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রায় এক-চতুর্থাংশ কর্মকর্তা এবং মধ্যম পর্যায়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সদস্য নারী।
এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর আট নারী নৌবাহিনী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এপি। তারা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, এ ঘটনাকে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত হিসেবে দেখছেন।
তারা আশঙ্কা করছেন, উচ্চপদে উঠলে তাদের ক্যারিয়ার রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার হতে পারে।
একজন জুনিয়র কর্মকর্তা বলেন, এটি বার্তা দিচ্ছে যে উচ্চপদে গেলে আমাদের অগ্রগতি সীমাবদ্ধ হয়ে যেতে পারে।
কেউ কেউ মনে করছেন, এর মাধ্যমে নারীদের সামরিক নেতৃত্বে মূল্যায়ন কমে যাচ্ছে।
পেন্টাগন অবশ্য এই সিদ্ধান্তের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
তবে প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, সামরিক পদোন্নতি সম্পূর্ণভাবে মেধার ভিত্তিতে দেয়া হয় এবং লিঙ্গ বা বর্ণ এখানে বিবেচ্য নয়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ক্যাথরিন কুজমিনস্কি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন হস্তক্ষেপ স্বাভাবিক নয়। এটি দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা থেকে একটি বিচ্যুতি।
হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে সামরিক বাহিনীতে নারী ও সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা দেয়া হয়। যদিও তিনি এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
গত সেপ্টেম্বরে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ভুল কারণে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে—জাতি, লিঙ্গ বা কোটা ভিত্তিতে।‘
এর আগে নৌবাহিনীর প্রথম নারী প্রধান অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রাঙ্কেট্টিকে বরখাস্ত করেন, যার কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি। পরবর্তীতে আরো দুই নারী থ্রি-স্টার অ্যাডমিরালকে সরিয়ে দেয়া হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সামরিক বাহিনীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।
নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, এই পরিস্থিতি শুধু নারী সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; অনেক পুরুষ সদস্যও এখন সামরিক ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
এই বিভাগের অন্যান্য খবর
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: