ইরানের নতুন পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে আরও গভীর হচ্ছে বিভাজন

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৯ জুন ২০২৬ ১৮:৩১

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ইরানের সাথে নতুন পরমাণু সমঝোতা ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে মতপার্থক্য তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই চুক্তির বিরোধিতা করা শীর্ষ নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়েও তিনি বিবেচনা করছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা যায়। ইরানের সাথে চলমান কূটনৈতিক সমঝোতা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউস, প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, যা দীর্ঘমেয়াদে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রশাসনের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন না। তাদের মতে, তেহরানের সাথে নতুন কোনো সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব আপত্তি ও অভ্যন্তরীণ বিরোধিতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি মনে করছেন, প্রশাসনের ভেতরের কিছু কর্মকর্তা তার পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছেন। এ কারণেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

সম্ভাব্য অপসারণের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)-এর পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফের নামও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর আরো কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার অবস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরানের সাথে সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সাথে সমন্বয়ের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস, প্রতিরক্ষা দপ্তর কিংবা সিআইএর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়া হয়নি। ফলে সম্ভাব্য ছাঁটাইয়ের বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: