ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘অ্যামচেমস অব এশিয়া প্যাসিফিক (এএপি) ওয়াশিংটন ডোরনক ২০২৬’-এ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামছেম) নির্বাহী পরিচালক চৌধুরী কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদ। এ লক্ষ্যে ওয়াশিংটন সফরকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়াতে দেশটির ধারাবাহিক সমর্থনের আহ্বান জানান।
অ্যামচেম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে গত ২১ থেক ২৪ জুন অনুষ্ঠিত হয় এএপি ওয়াশিংটন ডোরনক ২০২৬’। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি নির্ধারণে দেশটির প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্য, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং শীর্ষস্থানীয় নীতি বিশ্লেষকদের সঙ্গে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ব্যবসায়ী নেতাদের এ উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ও নীতি নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক এ অ্যাডভোকেসি মিশনের মূল লক্ষ্য কৌশলগত সংলাপ, সেমিনার ও ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করা।
এ সংলাপে অংশ নিতে ওয়াশিংটন সফরকালে কায়সার মোহাম্মদ রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া, টেক্সটাইল, ইনভেস্টমেন্ট ও ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি বিষয়ক ডেপুটি ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) অ্যাম্বাসেডর রিক সুইজার, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অ্যাডভোকেসি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক হিরো রদ্রিগেজ এবং ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক প্রেসিডেন্টের বিশেষ সহকারী ইমোরি কক্স।
এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স সাব-কমিটির (ইস্ট এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক) চেয়ারপারসন রিপ্রেজেন্টেটিভ ইয়াং কিম, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বিষয়ক সিনেট সাব-কমিটির সদস্য সিনেটর স্টিভ ডেইনস এবং জয়েন্ট ইকোনমিক কমিটির র্যাংকিং মেম্বার সিনেটর ম্যাগি হাসানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বৈঠকগুলোয় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সমর্থনের আহ্বান জানান অ্যামচেম নির্বাহী পরিচালক। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতে বাধ্যতামূলক শ্রম অনুপালন (ফোর্সড-লেবার কমপ্লায়েন্স) নীতি কার্যকরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে যৌক্তিক সময় দেয়ার (ট্রানজিশন পিরিয়ড) ওপর জোর দেন তিনি। ইউএসটিআর কর্মকর্তাদের পরবর্তী বাংলাদেশ সফরের সময় অ্যামচেম সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আমন্ত্রণও জানান রিয়াদ। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং আগামীতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো গভীর করতে কোন কোন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গিও জানতে চান তিনি।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘অ্যামচেমস অব এশিয়া প্যাসিফিক (এএপি)’ হলো এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর। জোটটি ২৬টি অর্থনীতির ৩০টি স্বাধীন আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সকে একত্রিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রসারে কাজ করছে।
এই বিভাগের অন্যান্য খবর
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: