ইউরোপে আরও শক্তিশালী মিত্র চায় যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

Maisha Mumtaz | ৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৭

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ইউরোপে শক্তিশালী মিত্র চায় যুক্তরাষ্ট্র। ইউরোপ সফরের চার দিনের কর্মসূচির শেষ ধাপে পর্তুগালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ কথা বলেন।

এথেন্স বিমানবন্দরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের মিত্ররা শক্তিশালী হোক। তারা যত শক্তিশালী হবে, সম্মিলিতভাবে আমরাও তত শক্তিশালী হব। আমরা একটি শক্তিশালী ইউরোপ চাই। ইউরোপে আমরা শক্তিশালী অংশীদার চাই।’

রুবিও বলেন, ‘ন্যাটোর প্রতিটি সদস্য সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক—সব দিক থেকে যত শক্তিশালী হবে, ন্যাটোও তত শক্তিশালী হবে।’

জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার গ্রিসে ছিলেন রুবিও। এ সময় মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে তথ্য বিনিময়ে একটি যৌথ চুক্তির ঘোষণাও দেন তিনি।

গ্রিসের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকের পর অ্যাক্রোপলিসের নিচে দেয়া এক জোরালো বক্তৃতায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির কথা তুলে ধরেন। একইসাথে ইউরোপকে তার ‘দীর্ঘ নিদ্রা’ থেকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান।

তিনি সতর্ক করে বলেন, পশ্চিমা সভ্যতা এখন ‘জাতীয় শক্তি’ ও অবক্ষয়ের মধ্যকার এক ‘সন্ধিক্ষণে’ রয়েছে।

সোমবার রাতে আইসল্যান্ড দিয়ে রুবিও’র ইউরোপ সফর শুরু হয়। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ওয়াশিংটন একটি চুক্তি করার পর আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরো বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে তিনি আইসল্যান্ড সফর করেন।

মঙ্গলবার তিনি বলেন, গোপন তৎপরতা পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করতে আইসল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি’ হিসেবে কাজ করে আসছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে এবং নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরো বেশি করে নিতে চাপ দিয়ে আসছে।

২০২৫ সালের জুনে হেগে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ন্যাটোর সদস্যরা ২০৩৫ সাল নাগাদ প্রতিবছর মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগে সম্মত হয়।

রুবিও বৃহস্পতিবার বলেন, ‘অনেক দেশই তাদের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে এসেছে। সত্যি বলতে, জার্মানরা এগিয়ে আসছে এবং শক্তিশালী হতে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক জায়গাতেই এমন কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। অবশ্য কিছু দেশ পিছিয়ে আছে। আমি জানি, তাদের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ রয়েছে। তবে আমি মনে করি, এটি তাদের সবার জন্যই ভালো।’

গ্রিসে রুবিও’র এই সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রেরসংবাদমাধ্যমগুলো দেশটিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কিম্বারলি গিলফয়েলকে ঘিরে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন গিলফয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তিনি সরকারি কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় গ্রিসের একটি নির্মাণ ও জ্বালানি কোম্পানির বাণিজ্যিক স্বার্থকে এগিয়ে নিয়েছেন।

ওই বিদেশী কোম্পানির নিবন্ধিত একজন লবিস্টকে তিনি একাধিকবার জ্যেষ্ঠ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে অংশ নেয়ার সুযোগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুবিও কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক গিলফয়েলের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।