ট্রাম্পের হুমকির কারনে নাগরিকদের প্রস্তুতির নির্দেশ দিলেন গ্রিনল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭:৩৩

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না দ্বীপটির প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডরিক নেলসন।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার জন্য তার প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই দ্বীপের বাসিন্দাদেরও সতর্ক করেছেন নেলসন।

রাজধানী নুকে এক সাংবাদিক বৈঠকে নেলসন বলেন, “সামরিক আগ্রাসনের সম্ভাবনার জন্য গ্রিনল্যান্ডকে প্রস্তুতি শুরু করতে হবে।”

তবে তিনি এও মনে করেন, এ ধরনের সম্ভাবনা বর্তমান পরিস্থিতিতে অসম্ভব! তার কথায়, ‘‘সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা কম। তবে তা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।”

সামরিক অভিযানের সম্ভাবনায় তাৎক্ষণিক কী পদক্ষেপ নিচ্ছে গ্রিনল্যান্ড? নেলসন জানিয়েছেন, তার প্রশাসন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করবে। সেই টাস্ক ফোর্স দ্বীপের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে সম্ভাব্য যেকোনও ব্যাঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকবে। তারা সাহায্য করবে। শুধু তা-ই নয়, সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে বাসিন্দাদের কী কী করতে হবে, তা নিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে বলেও জানান নেলসন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই দ্বীপের পরিবারগুলো যেন কমপক্ষে পাঁচ দিনের খাবার মজুত রাখে, তা উল্লেখ থাকবে ওই নির্দেশিকায়।

গত কয়েক দিনে ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি করেছেন। বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘যেকোনও মূল্যে’ গ্রিনল্যান্ড দখল করা হবেই। হয় চুক্তির মাধ্যমে, নয়তো বলপ্রয়োগ করে!

ট্রাম্প কেন গ্রিনল্যান্ড চাইছেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, চীন ও রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করতে গ্রিনল্যান্ড দখল নেওয়া প্রয়োজন। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গ্রাফিক পোস্ট করে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন দাবি করেন। তার দাবি, ২০২৬ সালেই বিশ্বের বৃহত্তম এই দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের অংশ হতে চলেছে।

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, তা নিয়ে এখনও ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করে কিছু দাবি করেনি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক কর্তা দাবি করেছেন, সামরিক অভিযানের বিকল্প উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে আলোচনা চলছে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরে। ইতোমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটিতে সামরিক বিমান মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার নর্থ আমেরিকান এরোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের পিতুফিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটিতে শিগগিরই সামরিক বিমান পৌঁছে যাবে। ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্রিনল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্র ঘাঁটিতে সামরিক বিমান পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: