ফাইল ছবি
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কয়েক ঘণ্টার পরোক্ষ আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি বা ব্রেকথ্রু ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বৈরী সম্পর্ক থাকা দেশ দুটির মধ্যে বৃহস্পতিবারের এই আলোচনা ইরানে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এড়ানোর শেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হলেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান না আসায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা এখনো কাটেনি। তবে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান জানিয়েছে, দুই পক্ষই কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আলবুসাইদি জেনেভায় দুই সেশনের বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির মধ্য দিয়ে আমরা দিনটি শেষ করেছি।’
তিনি আরও জানান, দুই পক্ষই নিজ নিজ দেশের রাজধানীতে পরামর্শের পর শিগগির আলোচনা ফের শুরু করার পরিকল্পনা করছে এবং আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ওমানি মন্ত্রী আলোচনার বিষয়ে আশাবাদী মূল্যায়ন করলেও চুক্তির পথে থাকা প্রধান বাধাগুলো দুই পক্ষ কাটিয়ে উঠতে পেরেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই আলোচনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের হওয়া অন্যতম গুরুতর আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু বিষয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছি, আর কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আলোচনার পরবর্তী রাউন্ড শিগগির, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।’ আরাঘচি আরও বলেন, ইরানিরা স্পষ্টভাবে আমেরিকান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে যে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগে তেহরানকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হবে।
আমেরিকান প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে আলোচনার ফল নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও ‘অ্যাক্সিওস’ এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, জেনেভা আলোচনা ‘ইতিবাচক’ ছিল। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের ব্যালেস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা করতে দেশটির অস্বীকৃতিকে ‘বড় সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই মিসাইলগুলো শুধু আমেরিকাকে আঘাত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে ‘সত্যিই খারাপ কিছু’ ঘটবে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধান পছন্দ করলেও তিনি তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবেন না।
বর্তমানে ইরানের জলসীমার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে এবং যুদ্ধবিমান ও রণতরী মোতায়েন করেছে। এ অবস্থায় আগামী সপ্তাহের ভিয়েনা আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ব, যা ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে শেষ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: