ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। সোমবার অনুষ্ঠিত এই ফোনালাপে দুই নেতা ওই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ইরান এবং পশ্চিমাপক্ষগুলোর মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনা। প্রেসিডেন্ট পুতিন এই পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। সৌদি যুবরাজও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে রিয়াদের অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েকদিন ধরে ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল রুটে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামও লাফিয়ে বাড়ছে।
পুতিন এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তিনি এর আগে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও একই বিষয়ে কথা বলেছেন। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়া ঐতিহাসিকভাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যুতে সমঝোতার জন্য কাজ করে আসছে এবং বর্তমানেও স্থিতিশীলতা ফেরাতে আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক প্লাস (OPEC+) জোটের প্রধান দুই সদস্য হিসেবে রাশিয়া ও সৌদি আরবের এই আলোচনা বৈশ্বিক তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ইরান সংকটের কারণে যদি হরমোজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিশ্বনেতারা এখন তৎপর হয়ে উঠেছেন।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: