ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা পঙ্গু করে দেওয়ার লক্ষ্যে বড় ধরনের ড্রোন ও মিসাইল হামলা শুরু করেছে ইরান। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহান্ত থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত অন্তত সাতটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনার যোগাযোগ ও রাডার ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত ছবি (Satellite Imagery) এবং যাচাইকৃত ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের এই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সমন্বয় করার ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের (Fifth Fleet) সদর দপ্তরে ইরানের ‘ওয়ান-ওয়ে’ অ্যাটাক ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন টার্মিনাল (AN/GSC-52B) ধ্বংস হয়েছে, যা রিয়েল-টাইম যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাতারে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন ঘাঁটি 'আল উদেদ'-এ একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ১১০ কোটি ডলার মূল্যের একটি আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের 'ক্যাম্প আরিফজান' এবং 'আলী আল সালেম' বিমান ঘাঁটিতেও একাধিক রাডার ডোম এবং স্যাটেলাইট ডিশ ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ইরানের এই হামলায় আমেরিকার প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলার সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রাডার, স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা এবং দীর্ঘপাল্লার যোগাযোগ যন্ত্রপাতির সুরক্ষাকবচ (Radomes) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। ইরান একে ‘সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি সম্মুখযুদ্ধের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ‘চোখ ও কান’ খ্যাত রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে ইরান একটি কৌশলগত সুবিধা নিতে চাইছে।
হোয়াইট হাউজ এবং পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য না করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকান নাগরিকদের দ্রুত ওই অঞ্চল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো নিরাপত্তার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নিখুঁত হামলা প্রমাণ করে যে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত এবং তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে সক্ষম।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: