পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের ভারতে ইরানি যুদ্ধজাহাজ নোঙর করার বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৯ মার্চ ২০২৬ ১৭:০১

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

ইরানি যুদ্ধজাহাজের ভারতে নোঙর করা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিভ্রান্তির কারণ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিজেই। সোমবার ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি যে বিবৃতি দেন, তাতেই এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। নানা প্রশ্নও উঠছে।

বিবৃতিতে জয়শঙ্কর বলেন, ‘কোচিতে ইরানের একটি জাহাজ নোঙর করেছে। এ নিয়ে সদস্যরা নিশ্চয় জানতে আগ্রহী। ইরান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভারতকে অনুরোধ করে, এই অঞ্চলে থাকা তাদের তিনটি জাহাজকে ভারতীয় বন্দরে নোঙর করার জন্য। ১ মার্চ সেই অনুমতি দেওয়া হয়।’

এই বিবৃতির ফলে সংগত কারণেই মনে হয়, ভারত তিনটি জাহাজকেই নোঙর করার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু পরের বাক্যে জয়শঙ্কর বলেন, ‘কোচিতে আইরিস লাভান নোঙর করে ৪ মার্চ। সেই জাহাজের সব ক্রু ভারতীয় নৌবাহিনীর স্থাপনায় রয়েছেন। আমরা মনে করি, এটাই ছিল ঠিক সিদ্ধান্ত। এই মানবিকতার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দেশের হয়ে ভারতকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।’

স্পষ্টতই, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতিতে কিছুটা হেঁয়ালি রয়েছে। কোচিতে ‘আইরিস লাভান’–এর নাম করে তিনি তাঁর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। অথচ তার আগেই বলেছেন, তিনটি জাহাজকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে ইরানের অনুরোধ স্বীকার করে সেই অনুমতি দেওয়া হয় পরের দিন। কিন্তু বাকি দুই জাহাজের কোনো উল্লেখ তিনি করেননি।

ইরান তিনটি জাহাজের অনুরোধ করলেও কেন একটি মাত্র জাহাজকে নোঙর করতে দেওয়া হয়, সেই ব্যাখ্যাও জয়শঙ্কর দেননি। অন্য দুই জাহাজকে কেন থাকতে দেওয়া হলো না, তাদের অবস্থানই বা কী, সেই ব্যাখ্যাও বিবৃতিতে নেই।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার দাবি জানানো হয়েছিল লোকসভায়। কিন্তু বিরোধীদের সেই দাবি আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে বিরোধীরা প্রবল হট্টগোলে শুরু করেন। তার মধ্যেই জয়শঙ্কর তাঁর বিবৃতি পেশ করেন।

বিবৃতিতে জয়শঙ্কর তিনটি বিষয়ে ভারতের ভূমিকা নির্দিষ্টভাবে জানিয়েছেন। প্রথমত, ভারত সর্বদা শান্তির পক্ষে। ভারত মনে করে, আলোচনা ও কূটনীতির মধ্য দিয়েই সব সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রেও ভারত চায় সেই রাস্তায় ফেরা উচিত।

জয়শঙ্কর বলেন, ভারত চায় উত্তেজনা কমুক। সবাই সংযত হোক এবং অসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।

দ্বিতীয়ত, ওই তল্লাটে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সবচেয়ে বড় কাজ। সেটাই অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যে ওই অঞ্চলের সরকারদের সঙ্গে সরকার কাজ করে যাবে।

তৃতীয়ত, সবার আগে জাতীয় স্বার্থ। জ্বালানিনিরাপত্তা ও বাণিজ্যসহ জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার সদা সচেষ্ট।

জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং তাঁদের দেশে ফেরানোর চিন্তাই সরকারের প্রধান কাজ। দীর্ঘ বিবৃতিতে জয়শঙ্কর সে কথাই বলেছেন।

জয়শঙ্কর বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক কোটি ভারতীয় রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য শুরু থেকেই সরকার নানা পরামর্শ দিয়েছে। একাধিকবার ইরানে থাকা ভারতীয়দের দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে। কিন্তু অনেকেই উপেক্ষা করেছেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ৬৭ হাজার ভারতে ফিরে এসেছেন। বাকিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তৎপর। আটকে থাকা নাগরিকদের ফেরাতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: