সংগৃহীত
আঞ্চলিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ ও কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত নতুন বহুজাতিক জোটের কমান্ডার হিসেবে সৌদি রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, জোটের কমান্ডার যৌথ নৌপ্রতিরক্ষা কার্যক্রম তদারকি করবেন, সদস্য রাষ্ট্র ও অন্যান্য সামুদ্রিক জোটের সঙ্গে সমন্বয় করবেন এবং সনদের আওতায় বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করবেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও অনেক দেশ এই জোটে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে; এর মধ্যে কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে এবং অন্যরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের আগে ঘোষণাপত্র ও সনদ স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই জোট একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং এর লক্ষ্য ও নীতির সঙ্গে একমত পোষণকারী সব দেশকে স্বাগত জানাবে।
আসন্ন কর্মপরিকল্পনা হিসেবে, জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত করতে এবং আরও বেশি দেশের যোগদান ত্বরান্বিত করতে আগামী ১২ থেকে ১৩ আগস্ট একটি পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে গত ৩০ জুলাই সৌদি আরবসহ ১৪টি দেশ লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালী এবং এডেন উপসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্য জাহাজের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ রক্ষায় এই ‘বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট’ গঠনের ঘোষণা দেয়। রিয়াদে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক বৈঠকে ৪৩টি দেশের চিফ অব স্টাফ, প্রতিনিধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদলের আলোচনার পর এই যৌথ ঘোষণা আসে।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রাষ্ট্রগুলো স্পষ্ট করেছে যে এই জোট সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্র বা সংগঠনের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। আন্তর্জাতিক আইন মেনে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ লাইন সুরক্ষিত রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। সৌদির রাজধানী রিয়াদকে এই জোটের স্থায়ী সদর দপ্তর এবং প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করার প্রেক্ষাপটে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা রক্ষায় এই জোটে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ সমর্থন জানিয়েছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: