বন্যাদুর্গত চট্টগ্রাম পরিদর্শনে আমির শফিকুর রহমান, দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১০ জুলাই ২০২৬ ১৯:৩৩

ছবি: সংগৃহীত ছবি: সংগৃহীত

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেই ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং পানিবন্দি পরিবারগুলোর দুর্ভোগের কথা শোনেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের চারটি বিভাগ—চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, "রংপুর বিভাগ আরও বড় হুমকিতে পড়তে পারে, যদি তিস্তার উজানে বাঁধগুলো খুলে দেওয়া হয়। প্রতি বছরই এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।"

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "ইতোমধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে এবং সরকারও এ বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে। আমরা এখন সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছি। প্রকল্পটি বড় হওয়ায় সময় লাগবে, তবে আন্তরিকভাবে কাজ শুরু হয়ে তার দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণ দেখতে চায়।"

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে তিনি সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত এলাকাও পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন এবং দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণেরও কর্মসূচি রয়েছে।

অবিরাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ কয়েকটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এখনও অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।

পরিদর্শনের সময় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপিসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: