কওমি ধারার সাত ইসলামী দলের ঐক্য প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি

মুনা নিউজ ডেস্ক | ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:১৫

ছবি: গ্রাফিক্স ছবি: গ্রাফিক্স

কওমি ধারার সাত ইসলামী দলের ঐক্য প্রক্রিয়ায় প্রস্তাব সমন্বয়ের একটি ধাপ শেষ হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে গঠিত সাত সদস্যের উপকমিটি দলগুলোর পৃথক প্রস্তাব পর্যালোচনা করে একটি ‘সমন্বিত রূপরেখা’ তৈরি করেছে।

হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) কালবেলাকে জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় উপকমিটির বৈঠকে এ রূপরেখা তৈরি করা হয়। হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান থাইল্যান্ড থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলে সাত দলের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হবে। সেখানে রূপরেখাটি উপস্থাপন করে ঐক্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দলের নেতারা জানিয়েছেন, তারা উপকমিটির সর্বশেষ বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তারা ঐক্যের পক্ষে থাকলেও এর ধরন, সাংগঠনিক কাঠামো ও রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাত দলের রাজনৈতিক সমঝোতা, নির্বাচনগুলোতে সমন্বিতভাবে অংশগ্রহণ এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলাদা সমঝোতা না করার পক্ষে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আদর্শিক ঐক্য ও একটি বিশেষ ফোরামের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দলগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা চায়। বিপরীতে খেলাফত মজলিস নতুন ঐক্যে থাকা দলগুলোর অন্য কোনো জোটে একসঙ্গে না থাকার পক্ষে। বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন হেফাজতের তত্ত্বাবধানে নতুন ঐক্য এবং অন্য বড় রাজনৈতিক জোট থেকে দূরত্ব বজায় রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।

ইসলামী ঐক্যজোট ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাকে গুরুত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সমমনা দলগুলোর ঐক্যের পাশাপাশি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে মাঠে সক্রিয় থাকার প্রস্তাব করেছে।

গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে সাত দলের মতবিনিময় সভায় ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়। পরে দলগুলো ৩ আগস্টের মধ্যে তাদের প্রস্তাব জমা দেয়।

এখন সাত দলের নেতাদের বৈঠকেই নির্ধারিত হবে ঐক্যটি কী ধরনের হবে, এর সাংগঠনিক কাঠামো কী হবে এবং রাজনৈতিকভাবে দলগুলো কতটা সমন্বিত থাকবে।