প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

Akhlakuzzaman | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫০

ছবি : সংগৃহীত ছবি : সংগৃহীত

প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’ (The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives)।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি এবং মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। এই দীর্ঘায়ু মানুষের সামনে যেমন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে, তেমনি তাদের একটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন উপহার দিতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তার কাঠামোকে যুগোপযোগী করে তোলার প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে। একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সরকার প্রবীণদের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষায় বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জীবনচক্রের প্রতিটি ধাপে সহায়তা প্রদান এবং প্রবীণ বয়সে সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরিতে বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেফারের অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করার কাজ এগিয়ে চলছে।

প্রবীণদের পরিবারের ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর নির্ভর করেই আজকের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত জরুরি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে, আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এই শুভলগ্নে দেশের প্রবীণ নাগরিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যেখানে তরুণ কিংবা প্রবীণ—প্রতিটি নাগরিক তাদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবে। তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।