ফাইল ছবি
ইসলামের দুই পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার নির্ধারিত এলাকায় বিদেশি মুসলিমদের সম্পত্তি কেনার সুযোগ দিয়েছে সৌদি আরব। দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ শিথিল করে নতুন এই নীতিমালা অনুমোদন করেছে দেশটির সরকার।
সৌদি আরবের মন্ত্রিসভা ২৩ জুন বিদেশিদের জন্য সম্পত্তির মালিকানা সংক্রান্ত নতুন বিধিমালা এবং অনুমোদিত এলাকাগুলো নির্ধারণ করে। একই দিনে দেশটির রিয়েল এস্টেট জেনারেল অথরিটি (আরইজিএ) বিদেশি নাগরিকদের সম্পত্তি কেনার আবেদন গ্রহণের জন্য ‘সৌদি প্রোপার্টিজ’ নামে একটি সরকারি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে।
এর আগে ২০০০ সাল থেকে চালু থাকা আইনে সৌদি নাগরিক ছাড়া অন্যদের মক্কা ও মদিনায় সম্পত্তি কেনার সুযোগ ছিল না। কেবল উত্তরাধিকার বা ধর্মীয় দান-সম্পর্কিত সীমিত কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধু মুসলিমরাই মক্কা ও মদিনার নির্ধারিত এলাকায় সম্পত্তি কিনতে পারবেন। বিশ্বের যেকোনো দেশের মুসলিম নাগরিক—সৌদি আরবে বসবাসকারী কিংবা বিদেশে থাকা—এই সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে অমুসলিমদের জন্য এই দুই পবিত্র নগরীতে সম্পত্তির মালিকানা নিষিদ্ধ থাকবে।
তবে পুরো মক্কা বা মদিনাজুড়ে এই সুবিধা দেওয়া হয়নি। সরকার নির্ধারিত বিশেষ এলাকায় সম্পত্তি কেনার অনুমতি থাকবে। মক্কার অনুমোদিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে জাবাল ওমর, আবরাজ মক্কা, আল-মানার, বুরজ আজিয়াদ, কিং সালমান গেট, তিলাল ভিলেজ, ধাখির মক্কা, দাহিয়াত সুমু, মাসার এবং মক্কা জোন-১ ও ২।
মদিনায় অনুমোদিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে রুয়া আল-মদিনা, ডাউনটাউন মদিনা, দিয়ার আল-মাকার, আল-ঘুররা, আল-মাহওয়া, দারাত আল-হিজরা এবং মদিনা জোন-১ ও ২।
বিদেশে থাকা আবেদনকারীদের সৌদি দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ডিজিটাল পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সৌদি আরবে বসবাসকারীরা ইকামা নম্বর ব্যবহার করে আবেদন করতে পারবেন।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে সম্পত্তি কেনার মাধ্যমে সৌদির প্রিমিয়াম রেসিডেন্সির সুযোগও পাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সম্পত্তিটি আবাসিক হতে হবে, নির্মাণকাজ সম্পন্ন থাকতে হবে, মূল্য কমপক্ষে ৪০ লাখ সৌদি রিয়াল হতে হবে এবং তা কোনো ঋণ ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে কিনতে হবে।
সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’-এর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, আবাসন খাতের উন্নয়ন এবং ওমরাহ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।
সৌদি আরব ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৩ কোটি ওমরাহ পালনকারীকে স্বাগত জানানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নতুন এই নীতির ফলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও মিসরসহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের জন্য মক্কা-মদিনায় সম্পত্তি মালিকানার নতুন সুযোগ তৈরি হলো।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: