প্রতিবেশীর জন্য কুরআন প্রতিযোগিতায় জিতে উমরাহর সুযোগ পেলেনে এক খ্রিস্টান

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৩ আগস্ট ২০২৬ ২০:৪৫

ফাইল ছবি ফাইল ছবি
মিশরের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিনামূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ জিতে নিয়েছেন। মিনা নামের ওই ব্যক্তির প্রতিবেশীকে উপহার দেওয়া এবং ওমরাহ পালনের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণে সহায়তা করতে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
 
‘স্কাই নিউজ আরাবিয়া’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামি প্রচারক ড. আয়মান আবু ওমরের একটি সোশ্যাল মিডিয়া লাইভস্ট্রিম দেখার সময় তার প্রতিবেশীকে কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেখেন মিনা। তিনি লক্ষ্য করেন, তার প্রতিবেশী ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন এবং ওমরাহ যাত্রার সুযোগ পাওয়ার আশায় কুরআনের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি খ্রিস্টান হওয়া সত্ত্বেও ইসলামি ধর্মীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল, প্রতিবেশীর জন্য ওমরাহ যাত্রার সুযোগটি জিতে নেওয়া।
 
মিনা জানান, তিনি প্রতিবেশী উম আলিকে বলেছিলেন, তিনিও তার পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। তার যুক্তি ছিল, উম আলি যদি জিততে না-ও পারেন, তবে তার (মিনার) মাধ্যমে পুরস্কারটি পাওয়ার একটি সম্ভাবনা থেকে যাবে।এরপর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানোর লক্ষ্যে, তিনি ৫০ থেকে ৬০ বারেরও বেশি সঠিক উত্তর জমা দেন।
 
এই কৌশলটি কাজে আসে এবং মিনা বিনামূল্যে ওমরাহ যাত্রার পুরস্কারটি জিতে নেন। পুরস্কারটি পাওয়ার পরপরই তিনি তা তার প্রতিবেশীকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। উম আলি জানান, প্রতিযোগিতার সময় মিনার অংশগ্রহণ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তিনি আরও বলেন, ওমরাহ যাত্রার সুযোগ নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন।
 
তিনি আরও জানান, ওমরাহ পালন তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল। তিনি এমন সময়ে এই সুযোগটি পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন, যখন তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ ও হাঁটাচলা করতে সক্ষম। মিনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, খবরটি জানানোর পর তিনি যখন প্রতিবেশীর বাড়ির দিকে তাকান, তখন দেখেন উম আলি চোখের পানি মুছছেন। আমি জানতাম না যে ওমরাহ এত বড় আনন্দের উপলক্ষ হতে পারে।
 
মিনা জানান, উম আলি ও তার পরিবারের সঙ্গে তার সম্পর্ক দুই দশকেরও বেশি সময়ের এবং তা সাধারণ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে অনেক গভীর এক সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, তিনি উম আলিকে বড় বোনের মতো মনে করেন এবং তার বাবা-মাকে নিজের পরিবারের সদস্যদের মতোই শ্রদ্ধা ও স্নেহ করেন।
 
মিশরের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনাটি ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। অনেক ব্যবহারকারী এই কাজটির প্রশংসা করে বলেছেন, এটি মুসলিম ও খ্রিস্টান প্রতিবেশীদের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ও সুন্দর সম্পর্কের একটি চমৎকার উদাহরণ।