ফাইল ছবি
সিরিয়ার আলেপ্পো শহরের ঐতিহাসিক উমাইয়া মসজিদ সংস্কার শেষে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল মসজিদটি।
বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার দেশটির মন্ত্রী, সরকারি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
আলেপ্পোর গভর্নর আজ্জাম আল-গারিব বলেন, উমাইয়া আমল থেকেই এই মসজিদটি আলেপ্পোর ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।
আল-গারিব বলেন, দীর্ঘ দিনের কঠিন সময় ও ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হওয়ার পর আমরা আলেপ্পোকে তার সেই গ্র্যান্ড মসজিদ ফিরিয়ে দিচ্ছি। এই মসজিদ বিপ্লবীদের আশ্রয়স্থল এবং স্বাধীনতা ও মর্যাদার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, মানুষ আলেপ্পো ও এর ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করতে কাজ করেছে। তারা মসজিদটিকে আরও ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়েছে এবং এটিকে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করে তুলেছে।
আল-গারিব জানান, সংস্কার কাজ পরিচালনার সময় মসজিদটির ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য ও সুযোগ-সুবিধাগুলো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে, যাতে এর কক্ষগুলোতে আবারও আজানের ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হতে পারে।
সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ওসামা আল-রিফাই বলেন, আলেপ্পোর ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের কারণে মুসলিমদের হৃদয়ে শহরটির একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। তিনি বলেন, মসজিদটি তার হারানো জৌলুস ফিরে পেয়েছে এবং ধর্মীয় ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আবু আল-খায়ের শুকরি আলেপ্পোর উমাইয়া মসজিদকে দামেস্কের উমাইয়া মসজিদের সমতুল্য হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই মসজিদটি জ্ঞানচর্চা ও সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাসের ধারক।
শুকরি বলেন, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের চেয়ে মানুষের পুনর্গঠন বা উন্নয়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মানুষই হলো সভ্যতা, অগ্রগতি ও ভবিষ্যতের ভিত্তি। তিনি বলেন, সিরিয়ার জনগণ ধ্বংসপ্রাপ্ত সবকিছু পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
আলেপ্পোর মুফতি ইব্রাহিম শাশো বলেন, মসজিদটি পুনরায় খুলে দেওয়ার অর্থ হলো এই ঐতিহাসিক মসজিদে প্রাণের সঞ্চার হওয়া। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এর টিকে থাকার ও ঘুরে দাঁড়ানোর ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবে।
আলেপ্পোর উমাইয়া মসজিদটি শহরের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিদর্শন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি শহরের জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংস্কার ও পুনর্বাসন কাজের পর এর পুনরায় খুলে দেওয়া আলেপ্পোর ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে মসজিদটির হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।