মধ্যপ্রাচ্য সংকটে নতুন মোড়: ওমানকে ট্রাম্পের আকস্মিক যুদ্ধের হুমকি

মুনা নিউজ ডেস্ক | ২৯ মে ২০২৬ ১৫:৫১

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নতুন উত্তেজনার মাঝে ওমানকে দেওয়া এক আকস্মিক সামরিক হুমকি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্ব বাজারের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই অত্যন্ত সংবেদনশীল নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে এমনিতেই স্থবির হয়ে আছে।

সম্প্রতি তেহরানের পক্ষ থেকে ওমানকে সাথে নিয়ে এই আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর যৌথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও শুল্ক আদায়ের একটি খসড়া চুক্তি করার খবর সামনে আসে। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসে আয়োজিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ওমানকে সতর্ক করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। নিয়ম অমান্য করলে দেশটিকে চরম পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। দীর্ঘদিনের একটি বিশ্বস্ত ও কৌশলগত মিত্র দেশের প্রতি প্রশাসনের এমন অপ্রত্যাশিত যুদ্ধংদেহী মনোভাব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনীতিবিদদের স্তম্ভিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বক্তব্যের মূল ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প হয়তো ভুলবশত মূল প্রতিপক্ষের জায়গায় ওমানের নাম উচ্চারণ করেছেন, কারণ অতীতেও তাঁর বক্তব্যে এমন ভৌগোলিক বিভ্রান্তি দেখা গিয়েছিল। তবে হোয়াইট হাউস বা পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে এই বক্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। অনেকেই এটিকে তাঁর সুপরিচিত ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ বা খামখেয়ালি পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে দেখছেন, যার উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর দুই মেয়াদে বিশ্বের বহু দেশকে সরাসরি আক্রমণ বা সামরিক হুমকি দিয়েছেন, যা বৈশ্বিক জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে যুদ্ধের ঝুঁকিতে ফেলেছে। শান্তি আলোচনার মাঝে এই নজিরবিহীন হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি বাজারকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: