ছবি: গ্রাফিক্স
যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামে শুক্রবার বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ফলে বাজারমূল্য থেকে প্রায় ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার উধাও হয়ে গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শীর্ষ কোম্পানি এনভিডিয়া, মাইক্রন টেকনোলজি এবং অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের শেয়ার বড় ধাক্কা খেয়েছে। এর পেছনে ব্রডকমের হতাশাজনক আর্থিক প্রতিবেদনের প্রভাব কাজ করেছে, যা পুরো ওয়াল স্ট্রিটে ছড়িয়ে পড়েছে।
চিপ খাতের প্রধান সূচক পিএইচএলএক্স সেমিকন্ডাক্টর সূচক বা এসওএক্স একদিনেই ১০.৩ শতাংশ পড়ে যায়। ২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বৈশ্বিক বাজারে তীব্র অস্থিরতার পর এটি ছিল সূচকটির সবচেয়ে বড় একদিনের পতন। বৃহস্পতিবার থেকেই বিক্রির চাপ শুরু হয়, যখন ব্রডকম তাদের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে জানায় যে কাস্টম এআই চিপ ব্যবসার চাহিদা বিনিয়োগকারীদের অত্যন্ত উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
দুই দিনে পিএইচএলএক্স সূচকের মোট ১২ শতাংশ পতন দেখাচ্ছে যে বিনিয়োগকারীরা এখন উচ্চমূল্যে লেনদেন হওয়া প্রযুক্তি খাতের শেয়ার নিয়ে আরও সতর্ক হয়ে উঠছেন। একই সময়ে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক আগামী সপ্তাহে তার মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের বহুল আলোচিত শেয়ারবাজারে প্রাথমিক শেয়ার বিক্রি (আইপিও) আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কোম্পানিটির সম্ভাব্য মূল্যায়ন ধরা হয়েছে ১.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার।
উল্লেখ্য, চিপ সূচকটি বুধবারই সর্বকালের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে। শুক্রবারের ধসের পরও চলতি বছরে সূচকটি এখনও ৭৩ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার শেয়ার প্রায় ৬ শতাংশ কমে যায়। এতে কোম্পানিটির বাজারমূল্য থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হারিয়ে যায়। মাইক্রন টেকনোলজির শেয়ার ১৩ শতাংশ পড়ে যায়। ফলে কোম্পানিটির প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারিয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের প্রিয় কোম্পানিগুলোর একটি মারভেল টেকনোলজির শেয়ার ১৭ শতাংশ কমে যায়। অন্যদিকে এএমডির শেয়ারও প্রায় ১১ শতাংশ হারিয়েছে।
ট্রিপল ডি ট্রেডিং-এর স্বত্বাধিকারী ট্রেডার ডেনিস ডিক বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী কোনো বিশ্লেষণ ছাড়াই দরপতনের সময় শেয়ার কিনছিলেন। এতদিন এই কৌশল তাদের লাভ দিয়েছে। কিন্তু আজ সেটি আর কাজ করেনি।
শুধু চিপ খাত নয়, প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর উচ্চ সুদের হার নিয়ে উদ্বেগও বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করেছে। এর ফলে বৃহত্তর আমেরিকান শেয়ারবাজারের সূচক এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর শেয়ারের দাম ২.৬ শতাংশ নেমে যায়। এআই প্রতিযোগিতার অন্যতম বড় সুবিধাভোগী ব্রডকমের শেয়ারও শুক্রবার ৭.৯ শতাংশ কমেছে। ফলে দুই দিনে কোম্পানিটির মোট ক্ষতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
ওয়েলস ফার্গোর প্রধান ইকুইটি কৌশলবিদ ওহসুং কওন বলেন, সেমিকন্ডাক্টর খাতে শেয়ারের দাম অত্যধিক বেড়ে গিয়েছিল। তাই এখন বিক্রির চাপ দেখা যাচ্ছে। তবে আমি মনে করি না যে এটি সেমিকন্ডাক্টর খাতের ঊর্ধ্বমুখী বাজারের সমাপ্তি।
এই বিভাগের অন্যান্য খবর
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: