ফিফা বিশ্বকাপের আগে নজিরবিহীন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করল এফবিআই

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১১ জুন ২০২৬ ২০:১৩

ফাইল ছবি ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। ৪৮টি দল, ৩৬টি বেস ক্যাম্প এবং ১১টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ নিরাপত্তা অপারেশন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৩০ লাখ দর্শনার্থী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি এবং ড্রোন হামলা, সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি, সহিংস দর্শক আচরণ, মাদকচক্র ও অন্যান্য সম্ভাব্য হুমকির কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এটি সংস্থার ইতিহাসে ‘সম্ভবত সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা উদ্যোগ’। তিনি বলেছেন, এটি বিশাল একটি দায়িত্ব, আমেরিকার ইতিহাসে এমন চাপ আগে খুব কম এসেছে।

প্যাটেল জানান, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহেই তিনি সংস্থাকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ, অলিম্পিক, দুটি ফর্মুলা ওয়ান রেস এবং সুপার বোলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, এসব বড় আন্তর্জাতিক আয়োজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এফবিআই ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি যৌথভাবে কাজ করছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে।

এফবিআই বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রায় ৩ লাখ ব্যক্তির ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করছে, যাদের মধ্যে খেলোয়াড়, কোচ ও সংশ্লিষ্ট স্টাফ রয়েছেন। পাশাপাশি স্টেডিয়াম এলাকার বাইরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে ড্রোন হামলাকে অন্যতম বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে এফবিআই। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৫ সালের অক্টোবরে একটি বিশেষ ‘কাউন্টার-ড্রোন’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করে সংস্থাটি।

এফবিআই জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হোস্ট শহরে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর ৭০ জন সদস্য এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। সংস্থার মতে, ড্রোন ব্যবহার করে স্বল্প খরচে এবং দূর থেকে দ্রুত হামলা চালানো সম্ভব হওয়ায় এটি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, ড্রোন এমন একটি মাধ্যম, যার মাধ্যমে খুব কম পরিকল্পনায়ও দূর থেকে আক্রমণ চালানো সম্ভব- এটাই এটিকে বিপজ্জনক করে তুলেছে।

তিনি জানান, বিশ্বকাপ উপলক্ষে ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দেশের মধ্যে ৪৬টি দেশের পুলিশ প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি যৌথ অপারেশন সেন্টার গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিজ নিজ দেশ থেকে রিয়েল-টাইম নিরাপত্তা তথ্য আদান-প্রদান করা হবে।

এই নিরাপত্তা কাঠামোকে ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের সময় গঠিত একটি যৌথ সমন্বয় কেন্দ্রের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করেছিল।

কাশ প্যাটেল সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, মিলান সফর বিশ্বকাপের নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, আমরা মিলান থেকে অনেক কিছু শিখেছি।

এই বিশ্বকাপ ঘিরে জটিল ও বহুমুখী নিরাপত্তা ঝুঁকির সতর্কতা দিয়েছে এফবিআই ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। মে মাসে প্রস্তুত করা ৭৮ পৃষ্ঠার যৌথ হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টটি নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত জটিল হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি হোস্ট শহর ও বিভিন্ন বেস ক্যাম্পকে ঘিরে আলাদা আলাদা ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ম্যাচে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রে কিছু সহিংস চরমপন্থী গোষ্ঠী ও বিদ্বেষমূলক অপরাধকে উসকে দিতে পারে।

বিশেষভাবে ইরানের দুটি গ্রুপ ম্যাচকে ঘিরে লস অ্যাঞ্জেলেসের কাছে অবস্থিত সোফাই স্টেডিয়ামে সম্ভাব্য সহিংস প্রতিবাদের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইরান সরকারের সমর্থক কিংবা বিরোধী- উভয় পক্ষের দর্শকদের প্রতিবাদের আশঙ্কাও রয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: