সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রেসিডেন্টের অসীম সাহস ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। রিপাবলিকানদের দাবি, এই নতুন চুক্তিটি পূর্ববর্তী ২০১৫ বা ২০১৮ সালের পরমাণু চুক্তির চেয়েও তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর অনেক বেশি কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে সক্ষম হবে।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন এবং দেশটির আসন্ন ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান এই চুক্তিতে চূড়ান্ত সম্মতি জানায়। তবে এর পূর্ণাঙ্গ খসড়াটি এখনো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, এই চুক্তি প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় বাধা ছিল ইসরাইল। লেবাননে অব্যাহত হামলার কারণে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে একজন 'জটিল প্রকৃতির মানুষ' হিসেবে আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, তাঁর কারণে চুক্তিটি প্রায় ভেস্তেই যাচ্ছিল। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরাইলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হতো।
অন্যদিকে, এই চুক্তি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, সমঝোতা স্মারকের মূল শর্তগুলো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো ধোঁয়াশায় ঢাকা। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সেথ মল্টন এই চুক্তিকে ইরানের কাছে ট্রাম্পের এক প্রকার 'আত্মসমর্পণ দলিল' বলে কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। আরেক প্রভাবশালী নেতা গ্রেগরি মিকস দাবি করেছেন, ট্রাম্পের এই রাজনৈতিক কৌশল দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং বিগত চার মাসের এই সংঘাত মূলত একটি ভ্রান্ত নীতি ছিল।
এদিকে, চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সময়সীমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভিন্ন সুর দেখা গেছে। ওয়াশিংটনের কর্মকর্তাদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো রাতারাতি তুলে নেওয়া হবে না। ইরান যখন চুক্তির সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি পূরণ করতে শুরু করবে, ঠিক তখনই ধাপে ধাপে এই অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো কার্যকর করা হবে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হতে যাচ্ছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: