সুপ্রিম কোর্টের একের পর এক রায়ে বড় ধাক্কা খেলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প; ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১ জুলাই ২০২৬ ২১:০৪

সংগৃহীত সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টে পরপর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়ে বড় ধরনের নীতিগত ও আইনি ধাক্কা খেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোম ঘোষিত এসব রায়ের মধ্যে চারটি ট্রাম্পের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিপক্ষে গেছে, আর মাত্র একটি তাঁর পক্ষে এসেছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব রক্ষা, ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা বজায় রাখা, ডাকযোগে ভোট গণনার নিয়ম বহাল এবং ই. জ্যঁ ক্যারলের যৌন নিপীড়ন মামলায় ট্রাম্পের আপিল খারিজ হয়ে গেছে। কেবল স্বাধীন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের কোনো কারণ ছাড়াই বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আদালতের সিদ্ধান্তের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর লিসা কুককে অপসারণের চেষ্টা আটকে দেওয়ার রায়ের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, দেশের কল্যাণ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত যেন কোনো অনিয়মকারী ব্যক্তি নিতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে তাঁর প্রশাসন অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। অন্যদিকে, ডাকযোগে ভোট গণনার নিয়ম বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে ভোটারদের অধিকারের জন্য ‘বড় ক্ষতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া, লেখিকা ই. জ্যঁ ক্যারলের যৌন নিপীড়ন মামলা পুনর্বিবেচনা করতে সুপ্রিম কোর্টের অস্বীকৃতিকে 'আশ্চর্যজনক' ও 'ভুয়া মামলা' বলে অভিহিত করে ট্রাম্প একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা বলে দাবি করেছেন।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী প্রধান এজেন্ডা 'জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব' বাতিলের নির্বাহী আদেশটি সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অবৈধ ঘোষণার পর। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে স্পষ্ট করেন যে, ট্রাম্পের এই আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর পরিপন্থী এবং দেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুই জন্মসূত্রে পূর্ণ নাগরিক। ডেমোক্র্যাট শিবিরের নেতারা এই রায়গুলোকে স্বাগত জানালেও, ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান সহযোগীরা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আদালতের এই অবস্থানকে তাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার কর্মসূচির জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছেন।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: