ফাইল ছবি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, বিমানটিতে প্রচলিত এয়ার ফোর্স ওয়ানের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই, যা বিদেশ সফরের সময় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
চলতি সপ্তাহে তুরস্ক সফরে যাওয়ার সময় ট্রাম্প প্রথমবারের মতো নতুন উড়োজাহাজটি ব্যবহার করেন। তবে সফরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর তাঁকে নতুন বিমানটি রেখে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে দেশে ফিরতে হয়। এ ঘটনাই বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে চলমান উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গত এক বছর ধরে কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটি সংস্কার করা হলেও কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে পূর্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্সিয়াল বিমানে থাকা সব প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তি সংযোজন করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে তাপ-অনুসরণকারী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এতে অনুপস্থিত বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউস অবশ্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান না করলেও বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করেছে। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চ্যং এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ এবং প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উচ্চমানের নিরাপত্তা প্রোটোকল এতে যুক্ত করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী স্বীকার করেছে, এটি স্থায়ী এয়ার ফোর্স ওয়ান নয়; বরং নতুন প্রেসিডেন্সিয়াল বিমান প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত এটি সাময়িকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে স্থায়ী এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা কিছু সক্ষমতা এই বিমানে নেই।
বিমানবাহিনীর সাবেক সেক্রেটারি ফ্রাঙ্ক কেন্ডাল বলেন, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বিমানটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্সিয়াল নিরাপত্তা মানে উন্নীত করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে এই উড়োজাহাজে বিদেশ সফর করা উদ্বেগের বিষয়।
বাইডেন প্রশাসনের সময় এয়ার ফোর্স ওয়ান কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু পি. হান্টারও একই মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি সাধারণ বোয়িং ৭৪৭-কে প্রকৃত অর্থে এয়ার ফোর্স ওয়ানে রূপ দিতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জটিল নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সংযোজন করতে হয়।
এদিকে ট্রাম্পের তুরস্ক সফরের আগেই ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের একটি দল বিমানটির নিরাপত্তা ও সংস্কারকাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাঁদের অভিযোগ, জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পছন্দ ও বিলাসিতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত উড়োজাহাজের নিরাপত্তা শুধু রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য নয়, তাঁর সঙ্গে থাকা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা, সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য, সাংবাদিক ও অন্যান্য সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। তাই নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: