আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

মুনা নিউজ ডেস্ক | ১৯ আগস্ট ২০২৬ ২০:১৭

ছবি : সংগৃহীত ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এবং আদালটির কর্মকর্তা আবদুলায়ে সেয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অভিযোগ, জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত আইসিসির কর্মকাণ্ডে আকানে ও সেয়ে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাপানের নাগরিক তোমোকো আকানে এবং সেনেগালের নাগরিক আবদুলায়ে সেয়েকে ‘স্পেশালি ডিজিগনেটেড ন্যাশনালস’ (এসডিএন) তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের নামে থাকা সম্পদ ও সম্পত্তি আটকে যাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না।

২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ইমপোজিং স্যাংশনস অন দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট’ শীর্ষক নির্বাহী আদেশে সই করেন। সেই আদেশের আওতায়ই আকানে ও সেয়ের বিরুদ্ধে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর আগে আইসিসির সাবেক প্রধান কৌঁসুলি করিম খান এবং আট বিচারকসহ আদালটির ১০ কর্মকর্তাকে একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

আইসিসি ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এরপর আদালটির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, আকানে ও সেয়ে আইসিসির এমন কর্মকাণ্ডে ‘সরাসরি’ যুক্ত ছিলেন, যার মাধ্যমে এমন দেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত, গ্রেপ্তার, আটক বা বিচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেসব দেশ আদালটির এখতিয়ার স্বীকার করেনি।

রুবিও বলেন, আইসিসির মাধ্যমে জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য যে হুমকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিস্তৃত পদক্ষেপ নেবে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জবাবদিহিহীন এই আদালতে অর্থায়ন ও অংশগ্রহণ বন্ধে আরও দেশ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে শামিল হবে।

এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আইসিসির বিরুদ্ধে একটি প্রচারাভিযান শুরু করে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, আদালটি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে। রুবিও বলেন, যেসব দেশ আইসিসির সদস্য নয়, তাদের নাগরিকদের ওপরও আদালত এখতিয়ার দাবি করায় আইসিসি নিজের বৈধতাই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আইসিসির সদস্য নয়।

এদিকে আইসিসির ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট এবং এই পদে দায়িত্ব পালন করা প্রথম জাপানি নাগরিক তোমোকো আকানে শুরু থেকেই নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগের সমালোচনা করে আসছেন। গত ডিসেম্বরে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বিচারকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁদের ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে না।

আকানে আরও বলেন, আইনি কাঠামোর ব্যাখ্যা ও মামলার বিচার নিয়ে কোনো ধরনের চাপ আইসিসি মেনে নেবে না। আদালতের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাকে এর মূল ভিত্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তা অটুট থাকবে।

তবে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আইসিসির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: