ফাইল ছবি
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে রদবদলের গুঞ্জন উঠেছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদত্যাগ করতে পারেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ ধরনের খবরকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ভূমিকার কারণে হেগসেথকে সরিয়ে দেয়ার জন্য প্রশাসনের ভেতরে চাপ তৈরি হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পেছনেও ইরান যুদ্ধকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, বিদায়ী রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ প্রস্তাব উত্থাপন করবেন বলে পলিটিকোকে জানিয়েছেন তিনি।
তবে অভিশংসনের উদ্যোগের জবাবে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে এ উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
হেগসেথ বলেন, ‘দেখুন, তারা আমাকে আক্রমণ করে। তারা আমাদের আক্রমণ করে, কারণ আমরা কাজ করতে সক্ষম। এটা কাজে আসবে না। আমরা পিছু হটব না।’
অন্যদিকে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন—এমন খবরও নাকচ করেছেন মার্কো রুবিও। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তার হয়ে কাজ করাই সব সময় তার পরিকল্পনা ছিল।
রুবিও বলেন, ‘আমি যে কাজ করছি, তা ভালোবাসি। আর যখন তারা বলে যে তিনি চাকরি ছাড়তে যাচ্ছেন, তখন আমি সব সময় হেসে বলি, কোন চাকরি?’
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর রুবিও পদত্যাগ করতে পারেন—এমন খবরও নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। দুই পক্ষই এসব প্রতিবেদনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে অভিহিত করেছে।
তবে হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তুলনামূলক বেশি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দুজনই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। এ পরাজয়ের ফলে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্রেটদের হাতে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
এবিসি নিউজকে টেলিফোনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হেগসেথকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে ফোন পেয়েছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দায়িত্বে রাখার ব্যাপারে তার ‘পূর্ণ ইচ্ছা’ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদেরও তিনি বলেন, ‘পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।’
এ সময় হেগসেথের নেতৃত্বে কয়েকটি সামরিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং ইরানে চলমান যুদ্ধের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।সরকারি আদেশ দেখুন
এদিকে, ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকেও সরিয়ে দেয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় গত আট মাস ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এই দুই সামরিক কর্মকর্তা।
অন্যদিকে, হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার বিষয়ে অনড় রয়েছেন রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি। পলিটিকোকে তিনি জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ প্রস্তাব উত্থাপন করবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ম্যাসি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, জানুয়ারিতে নতুন ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস দায়িত্ব নেয়ার আগেই হেগসেথকে সরিয়ে দেয়া উচিত। তার মতে, সিনেটে বিকল্প প্রার্থীদের অনুমোদন করিয়ে নেয়ার সুযোগ থাকতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।
এদিকে, টেনেসির শূন্য হওয়া সিনেট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ থাকতে পারে হেগসেথের—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে।
তবে ভিডিও বার্তায় নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন উদ্যোগকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, একজন অসন্তুষ্ট ও পরাজিত কংগ্রেস সদস্য তার ডেমোক্রেট মিত্রদের নিয়ে এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
নিজের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা বিভাগে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন হেগসেথ।
এর মধ্যে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা, প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি পুনর্গঠন এবং বৈচিত্র্যবিষয়ক উদ্যোগগুলো বন্ধ করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
ডেমোক্রেটদের সমালোচনা করে হেগসেথ বলেন, তাদের নীতি কার্যকর নয়। এ কারণে রাজনৈতিক নাটক ও প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার চেষ্টায় তারা ব্যস্ত। তার ভাষায়, ‘এটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত ধ্বংসের রাজনীতি।’